আওয়ামী লীগের সঙ্গে মীমাংসায় যে শর্ত জানালেন উপদেষ্টা জাহেদ

নিজস্ব প্রতিবেদক: আওয়ামী লীগের সঙ্গে রাজনৈতিক মীমাংসার সম্ভাবনা নিয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, রাজনৈতিক রেকনসিলিয়েশনের জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষের অতীত কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতি, অনুতাপ ও আন্তরিক সদিচ্ছা থাকা জরুরি। এসব বিষয়ে স্পষ্টতা না থাকলে সরকারের পক্ষ থেকে এ ধরনের আলোচনায় এগিয়ে যাওয়া কঠিন।
মঙ্গলবার তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
এক সাংবাদিক আওয়ামী লীগের সঙ্গে ‘রেকনসিলিয়েশন’ বা রাজনৈতিক মীমাংসা নিয়ে সরকারের চিন্তাভাবনা জানতে চাইলে জাহেদ উর রহমান বলেন, রাজনৈতিক মীমাংসার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে তার আপত্তি নেই। বরং দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকা মানুষের একটি অংশের সঙ্গে সমঝোতার উদ্যোগকে তিনি একেবারে অগ্রহণযোগ্য মনে করেন না।
তবে এ ধরনের মীমাংসার আগে মৌলিক কিছু বিষয় নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কোনো রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠী অতীতে অপরাধ করে থাকলে সেই অপরাধের স্বীকৃতি এবং সে বিষয়ে অনুতাপ রেকনসিলিয়েশনের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।
এ প্রসঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকার ‘ট্রুথ অ্যান্ড রেকনসিলিয়েশন কমিশন’-এর উদাহরণ তুলে ধরেন তথ্য উপদেষ্টা। তিনি বলেন, অপরাধের স্বীকৃতি ও অনুতাপ রেকনসিলিয়েশনের প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও এর অর্থ এই নয় যে সংশ্লিষ্ট অপরাধের আইনগত দায় শেষ হয়ে যাবে। প্রয়োজন হলে আইনি প্রক্রিয়াও চলবে।
জাহেদ উর রহমানের মতে, আওয়ামী লীগের সঙ্গে মীমাংসার আলোচনা নিয়ে অতীতে নানা পর্যায়ে কথা হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই আলোচনার উপযোগী পরিবেশ তিনি দেখতে পাচ্ছেন না।
তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর থেকে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বের বক্তব্য ও অবস্থানে অনুতাপের পরিবর্তে অভিযোগ এবং হুমকির বিষয়টি সামনে এসেছে। তার দাবি, এমন পরিস্থিতিতে সরকারের পক্ষে রেকনসিলিয়েশন প্রক্রিয়া শুরু করা কঠিন।
উপদেষ্টা আরও বলেন, রেকনসিলিয়েশন যদি আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সত্যিই প্রত্যাশিত হয়, তাহলে দলের পক্ষ থেকেই এ বিষয়ে আগ্রহ ও উদ্যোগ স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। বাইরের কোনো পক্ষ বিষয়টি সমর্থন করলেও আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বকে প্রথমে এমন একটি পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ নিতে হবে, যেখানে মীমাংসার মৌলিক শর্তগুলো পূরণ হয়।
তিনি বলেন, যারা আওয়ামী লীগের সঙ্গে রাজনৈতিক মীমাংসাকে ইতিবাচক মনে করছেন, তারা দলটির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ করে আলোচনার প্রয়োজনীয় ভিত্তি তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারেন। সেই ভিত্তি তৈরি হলে ভবিষ্যতে রেকনসিলিয়েশন নিয়ে আলোচনা সম্ভব হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে নিষেধাজ্ঞা এবং দলটির নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিভিন্ন আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে দেশের রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনা চলছে। এর মধ্যেই আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্ভাব্য রাজনৈতিক মীমাংসা নিয়ে সরকারের এই অবস্থান নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।


