৪০ বছর পর এশিয়ান গেমসে ব্যক্তিগত পদক বাংলাদেশের

স্পোর্টস ডেস্ক: এশিয়ান গেমসে দীর্ঘ চার দশকের অপেক্ষার অবসান ঘটতে যাচ্ছে বাংলাদেশের। নারী ৫২ কেজি ওজন শ্রেণির উশুতে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়ে বাংলাদেশের জন্য ব্যক্তিগত পদক নিশ্চিত করেছেন জিন্নাত আক্তার। প্রতিপক্ষের অযোগ্যতার কারণে কোয়ার্টার ফাইনালে না খেলেই সেমিফাইনালে উঠেছেন তিনি।
এর ফলে ১৯৮৬ সালের সিউল এশিয়ান গেমসের পর আবারও বাংলাদেশের ঝুলিতে যোগ হচ্ছে ব্যক্তিগত ইভেন্টের পদক। এর আগে বক্সিংয়ে মোশাররফ হোসেন ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন। এরপর বাংলাদেশ ক্রিকেট ও কাবাডির মতো দলীয় ইভেন্টে পদক পেলেও ব্যক্তিগত ইভেন্টে আর কোনো পদক আসেনি।
প্রতিপক্ষ অযোগ্য, সেমিফাইনালে জিন্নাত
নারী ৫২ কেজি উশু ইভেন্টে মোট ১৫ জন প্রতিযোগী অংশ নিচ্ছেন। নকআউট পদ্ধতির এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের একমাত্র প্রতিনিধি জিন্নাত আক্তার প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে বাই পান।
কোয়ার্টার ফাইনালে তার প্রতিপক্ষ ছিলেন ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেন্তিনা থারিসা। তবে নির্ধারিত ওজনের বেশি হওয়ায় ফ্লোরেন্তিনাকে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়। ফলে কোয়ার্টার ফাইনালে জিন্নাতকে খেলতে হয়নি এবং সরাসরি সেমিফাইনালে উঠে যান তিনি।
সেমিফাইনালে হারলেও ব্রোঞ্জ নিশ্চিত
উশুর এই ইভেন্টের নিয়ম অনুযায়ী সেমিফাইনালে ওঠা প্রতিযোগীরা ব্রোঞ্জ পদক পান। বাংলাদেশ উশু অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক দিলদার হাসান দিলু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, প্রতিযোগীর সংখ্যা ছয়ের কম হলে ব্রোঞ্জের জন্য আলাদা ম্যাচ আয়োজন করা হয়। কিন্তু এবার নারী ৫২ কেজি বিভাগে ১৫ জন প্রতিযোগী থাকায় সেমিফাইনালে পরাজিত দুই অ্যাথলেটই ব্রোঞ্জ পাবেন।
অর্থাৎ সেমিফাইনালে জিন্নাতের ফল যাই হোক, তার পদক নিশ্চিত।
শেফ দ্য মিশনেরও নিশ্চিতকরণ
বাংলাদেশ দলের শেফ দ্য মিশন মেজর ইমরোজ আহমেদও জিন্নাতের পদক নিশ্চিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন। তিনি জানান, উশু দলের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে এবং এশিয়ান গেমসের নিয়ম অনুযায়ী সেমিফাইনালে ওঠা অ্যাথলেট পদক পান।
আয়োজক কমিটির সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে আরও আলোচনা করার সুযোগ থাকলেও জিন্নাতের সেমিফাইনাল নিশ্চিত হওয়ায় পদক পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত বলেই জানিয়েছেন তিনি।
৪০ বছরের অপেক্ষার অবসান
১৯৭৮ সাল থেকে এশিয়ান গেমসে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ। ১৯৮৬ সালের সিউল আসরে বক্সিংয়ে মোশাররফ ব্রোঞ্জ পদক জেতার পর ব্যক্তিগত ইভেন্টে আর কোনো পদক পায়নি দেশটি।
পরবর্তী সময়ে ক্রিকেট ও কাবাডিতে বাংলাদেশের অ্যাথলেটরা পদক জিতেছেন। তবে সেগুলো ছিল দলীয় ইভেন্টের সাফল্য।
দীর্ঘ ৪০ বছর পর এবার সেই অপেক্ষা শেষ হচ্ছে উশুর মাধ্যমে। জিন্নাত আক্তারের হাত ধরে ব্যক্তিগত ইভেন্টে বাংলাদেশের পদক নিশ্চিত হওয়া তাই দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন একটি অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে এবারের সাফল্যের ব্যতিক্রমী দিক হলো—পদক নিশ্চিত করতে জিন্নাতকে কোয়ার্টার ফাইনালে কোনো ম্যাচ খেলতে হয়নি। প্রতিপক্ষ নির্ধারিত ওজনের বেশি হওয়ায় অযোগ্য ঘোষিত হওয়ায় সরাসরি সেমিফাইনালে জায়গা পান বাংলাদেশের এই উশু খেলোয়াড়।
এখন সেমিফাইনালে জিন্নাতের পারফরম্যান্সের দিকে তাকিয়ে বাংলাদেশ। ব্রোঞ্জ নিশ্চিত হলেও লড়াইয়ে জয় পেলে আরও বড় সাফল্যের সুযোগ তৈরি হবে।




