
এবিএনএ, বাগেরহাট: বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলায় মধুমতি নদীর চরের সরকারি খাস জমি দখলকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিরোধ রূপ নিয়েছে ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে। বিশ্বাস ও শেখ—এই দুই প্রভাবশালী পক্ষের দ্বন্দ্বে একের পর এক প্রাণহানির ঘটনায় পুরো এলাকা এখন আতঙ্কে আচ্ছন্ন।
সর্বশেষ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সংঘটিত সহিংসতায় শেখ পক্ষের যুবক রাজিব শেখ (২৫) নিহত হন। এ ঘটনায় অন্তত আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের পরপরই উভয় পক্ষের মধ্যে প্রতিশোধপরায়ণ হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এতে প্রায় ৩০টি বসতবাড়ি ও দোকান পুড়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
শনিবার এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে সৌরভ বিশ্বাস (১৯) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়। একই দিন দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে নিহত রাজিব শেখকে চিংগড়ী গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনে দেখা গেছে, চিংগড়ী ও মচন্দপুর গ্রামের মাঝামাঝি সড়কজুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে ইট-পাথরের টুকরো। দুই গ্রামেই বিরাজ করছে থমথমে পরিস্থিতি। আগুনে পুড়ে যাওয়া বাড়িঘর এখন কেবল ছাইয়ের স্তূপ। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর অনেকেই শেষ সম্বল হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন।
নিহত রাজিবের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। একই সঙ্গে এলাকাবাসীর জন্য বড় পরিসরে রান্নার আয়োজন করা হয়েছে। অন্যদিকে শেখ পরিবারের সদস্যরা নিজেদের হারানো সম্পদ ও ভিটেমাটির শোকে নিস্তব্ধ হয়ে পড়েছেন।
এদিকে সম্ভাব্য পাল্টা হামলার আশঙ্কায় মচন্দপুর গ্রামের বিশ্বাস পরিবারের অনেকেই ঘরবাড়ি ফাঁকা করে মূল্যবান জিনিসপত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন।
স্থানীয়দের দাবি, ২০১৪ সাল থেকে মধুমতি নদীর চরের সরকারি জমি দখল ও রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই বিরোধের সূত্রপাত। একপক্ষে রয়েছেন মচন্দপুর গ্রামের সাঈদ বিশ্বাসের অনুসারীরা, অন্যপক্ষে চিংগড়ী গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা শেখ মনজুরুল আলমের অনুসারীরা।
এই বিরোধে এর আগেও একাধিকবার সংঘর্ষ হয়েছে এবং প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। পূর্বের এক ঘটনায় আলম শেখ নিহত হন। এরপরও থামেনি সংঘাত। চলতি বছরের জানুয়ারিতে আরেক দফা সংঘর্ষে নিজাম উদ্দিন নামে একজন নিহত হন।
স্থানীয়দের মতে, রাজনৈতিক বিভাজনও এই সংঘর্ষকে আরও উসকে দিয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. শামীম হোসেন জানিয়েছেন, রাজিব শেখ হত্যাকাণ্ডসহ অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনায় ইতোমধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অন্যদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরও জানান, নতুন করে সংঘর্ষ এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
Chairman & Editor-in-Chief : Shaikh Saokat Ali,Managing Editor : Khondoker Niaz Ikbal,
Executive Editor : Mehedi Hasan,E-mail : abnanewsali@gmail.com
Usa Office: 2817 Fairmount, Avenue Atlantic city-08401,NJ, USA. Bangladesh Office : 15/9 Guptopara,Shemulbag,
2 nd floor,GS Tola, Teguriha, South Keraniganj, Dhaka.
Phone: +16094649559, Cell:+8801978-102344, +8801715-864295
Copyright © 2026 America Bangladesh News Agency. All rights reserved.