Day: January 17, 2026

  • শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিকতা না থাকলে সাফল্য অসম্পূর্ণ: ডিএমপি কমিশনারের গুরুত্বপূর্ণ বার্তা

    শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিকতা না থাকলে সাফল্য অসম্পূর্ণ: ডিএমপি কমিশনারের গুরুত্বপূর্ণ বার্তা

    এবিএনএ: শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না—সন্তানদের নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধে গড়ে তোলাও সমান জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী।

    শনিবার রাজধানীর রাজারবাগে বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়ামে ডিএমপির শিক্ষাবৃত্তি-২০২৪ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এদিন বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ৫১৭ জন মেধাবী শিক্ষার্থীর হাতে শিক্ষাবৃত্তি তুলে দেওয়া হয়।

    ডিএমপি কমিশনার বলেন, নৈতিকতা ছাড়া শিক্ষিত মানুষ দিয়ে কোনো দেশ বা সমাজের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। শিশু বয়স থেকেই নীতি-নৈতিকতার শিক্ষা দিতে হবে এবং সমাজের প্রতিটি স্তরে সেই মূল্যবোধ চর্চা করতে হবে।

    শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, বর্তমান সময়ের চাহিদা অনুযায়ী কারিগরি শিক্ষায় গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা অর্জন ভবিষ্যতের জন্য অপরিহার্য। তিনি বলেন, একজন ভালো মানুষ হতে পারলেই বাবা-মায়ের প্রকৃত গর্ব হওয়া যায়।

    অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) ফারুক আহমেদ। তিনি বলেন, ডিএমপির এই শিক্ষাবৃত্তি উদ্যোগ একটি উন্নত ও আদর্শ সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আদর্শ ও দেশপ্রেমিক মানুষ তৈরি না হলে রাষ্ট্রের অগ্রগতি সম্ভব নয়।

    বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে একজন শিক্ষার্থী বলেন, এমন সম্মানজনক অনুষ্ঠানের অংশ হতে পেরে তারা গর্বিত এবং এই উদ্যোগের জন্য ডিএমপির প্রতি কৃতজ্ঞ।

    অনুষ্ঠানে উপ-পুলিশ কমিশনার (সদরদপ্তর ও প্রশাসন) আমীর খসরু স্বাগত বক্তব্য দেন। উল্লেখ্য, ডিএমপিতে কর্মরত পুলিশ সদস্যদের সন্তানদের সুশিক্ষায় উৎসাহিত করতে ২০১৭ সাল থেকে এই শিক্ষাবৃত্তি কার্যক্রম চালু রয়েছে।

    এ সময় ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।

  • ঢাকা-১৭ আসনে বিএনপির শক্তিশালী মিডিয়া টিম, তবে শুরুতেই আস্থার ফাটল ঘিরে আলোচনা

    ঢাকা-১৭ আসনে বিএনপির শক্তিশালী মিডিয়া টিম, তবে শুরুতেই আস্থার ফাটল ঘিরে আলোচনা

    এবিএনএ: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দেশের তিনটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বগুড়া-১ ও বগুড়া-৬ আসনের পাশাপাশি রাজধানীর কূটনৈতিক ও অভিজাত এলাকা হিসেবে পরিচিত গুলশান-বনানী অধ্যুষিত ঢাকা-১৭ আসনে তার সম্ভাব্য প্রার্থিতা রাজনৈতিক অঙ্গনে বিশেষ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

    এই আসনে নির্বাচনী কার্যক্রম জোরদার করতে একাধিক সাংগঠনিক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি হলো মিডিয়া কমিটি, যেখানে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত ৫৯ জন সাংবাদিককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রবীণ সাংবাদিক মোস্তফা কামাল মজুমদারকে আহ্বায়ক এবং জাহিদুল ইসলাম রনীকে সদস্য সচিব করে এই কমিটি গঠন করা হয়।

    কমিটির দায়িত্ব হিসেবে নির্বাচনী কার্যক্রম সংক্রান্ত তথ্য প্রচার, গণমাধ্যম সমন্বয় এবং কৌশলগত পরামর্শ প্রদান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তারেক রহমানের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন আব্দুস সালাম। দলীয় সূত্র জানায়, ডান, বাম ও মধ্যপন্থি মতাদর্শের সাংবাদিকদের সমন্বয়ে ভারসাম্যপূর্ণভাবেই এই মিডিয়া কমিটি গড়া হয়েছে।

    তবে কমিটির যাত্রা শুরুর দিকেই আস্থার সংকটের ইঙ্গিত মিলেছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত প্রথম সভায় কয়েকজন সদস্য পারস্পরিক বিশ্বাসের ঘাটতি এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন। এমনকি বিএনপির নির্বাচনী কাজে গঠিত কিছু কমিটিতে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষের সংশ্লিষ্টদের অনুপ্রবেশের সম্ভাবনার কথাও আলোচনায় উঠে আসে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

    গত ১৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত মিডিয়া কমিটির প্রথম সভায় এসব বক্তব্য ঘিরে সভাকক্ষে চাপা কানাঘোষা ছড়িয়ে পড়ে। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত বা ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

    সব মিলিয়ে পাঁচ ডজন সাংবাদিক নিয়ে গঠিত ঢাকা-১৭ আসনের বিএনপির মিডিয়া কমিটি নির্বাচনী প্রচারে সক্রিয় ভূমিকা রাখার লক্ষ্য নিয়ে এগোলেও, আস্থার প্রশ্নে শুরুতেই যে জটিলতার আভাস মিলেছে—তা কত দ্রুত সামাল দেওয়া যায়, সেটিই এখন দলের দায়িত্বপ্রাপ্তদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    সাংবাদিকদের নিয়ে গঠিত টিমে অন্যান্যদের মধ্যে রয়েছেন- মাহমুদুল হাসান (এনটিভি অনলাইন), ইমরুল হাসান জনি (এনটিভি), উমর ফারুক (যায়যায়দিন), হাসান মোল্লা (বাংলাদেশ বুলেটিন), হাসান শিপলু (৭১ টিভি), মঈন উদ্দিন খান (নয়া দিগন্ত), আব্দুর রহমান জাহাঙ্গীর (ইউএনবি), খোন্দকার কাওসার (সাবেক ভোরের কাগজ), রাশেদুল হক (বাংলাবাজার পত্রিকা), মোস্তাফিজ বিপ্লব (বাংলাবাজার পত্রিকা), শফিকুল ইসলাম শফিক শাফি (দেশ রূপান্তর), আতিকুর রহমান রুমন (দিনকাল), এরফানুল হক নাহিদ (নবযুগ), রফিকুল ইসলাম আজাদ (সাবেক ডেইলি ইন্ডিপেনডেন্ট), শরিফুল ইসলাম (জনকণ্ঠ), মোশাররফ বাবলু (টাইমস অব বাংলাদেশ), বাছির জামাল (আমার দেশ), মঈনুল আহসান (এটিএন বাংলা), ইউসুফ আলী (মাইটিভি),রাজ কুমার নন্দি-(কালবেলা), শফিউল আলম দোলন (বাংলাদেশ প্রতিদিন), জাহানারা পারভীন (ইন্ডিপেনডেন্ট টিভি), কামরুল হাসান দর্পন (ইনকিলাব), গাউসুল আজম বিপু (জিটিভি), কামরুল হাসান (সমকাল), তরিকুল ইসলাম (যুগান্তর), আহমেদ সালেহীন (সময় টিভি), আল-আমিন- (ডেইলি সান), কাজী সুমন (মানবজমিন),নজরুল ইসলাম (আমাদের সময়), শাহনেওয়াজ বাবুল (চ্যানেল-২৪), মাহমুদুল হাসান (গ্রীনটিভি), মোরসালিন নোমানী (বাসস), রোমানা (বাসস), মারুফা রহমান (নিউজ২৪) মেহেদী আজাদ মাসুম (বৈশাখী টিভি), আক্তারুজ্জামান রকি (চ্যানেল-৯), বিশাল (আরটিভি), সজিব (দিনকাল), লাবনী সিদ্দিক (দিনকাল), ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার (জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন), মাহফুজ কবির মুক্তা, আব্দুল আহাদ (এসএটিভি), এনামুল হক বাবুল, জয়ন খান, কালাম ফয়েজী, আবুল কাশেম প্রমুখ।

  • ইরানের রক্তক্ষয়ী বিক্ষোভের নেপথ্যে কারা? যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দিকে আঙুল খামেনির

    ইরানের রক্তক্ষয়ী বিক্ষোভের নেপথ্যে কারা? যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দিকে আঙুল খামেনির

    এবিএনএ: ইরানে টানা দুই সপ্তাহ ধরে চলা বিক্ষোভ ঘিরে সহিংসতা ও প্রাণহানির ঘটনায় সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এই পরিস্থিতির অন্যতম ‘অপরাধী’ হিসেবেও উল্লেখ করেছেন।

    শনিবার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে সম্প্রচারিত এক ভাষণে খামেনি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সাম্প্রতিক ষড়যন্ত্রে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ব্যক্তিগতভাবেই জড়িত। তার অভিযোগ, বিদেশি শক্তির মদদপুষ্ট গোষ্ঠীগুলো পরিকল্পিতভাবে সহিংসতা উসকে দিয়ে দেশজুড়ে রক্তপাত ঘটিয়েছে।

    খামেনির দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চক্রগুলোই ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে এবং এতে কয়েক হাজার মানুষের প্রাণ গেছে। তিনি বলেন, এই সহিংসতা কোনো স্বতঃস্ফূর্ত গণআন্দোলন নয়, বরং বহিরাগত শক্তির পরিকল্পিত অপচেষ্টা।

    ইরানি কর্তৃপক্ষও সাম্প্রতিক অস্থিরতার জন্য বিদেশি শক্তিগুলোর দিকে আঙুল তুলছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিনের ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীরা—বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল—ইরানের ভেতরে অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে সক্রিয়ভাবে ভূমিকা রেখেছে।

    খামেনি তার বক্তব্যে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরান এই পরিস্থিতিকে সীমান্তের বাইরে সামরিক সংঘাতে রূপ দিতে চায় না। তবে দেশি বা বিদেশি যেকোনো অপরাধীকে শাস্তির আওতার বাইরে রাখা হবে না বলেও স্পষ্ট করে দেন তিনি।

    এই বক্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন অর্থনৈতিক সংকট ও রাজনৈতিক অসন্তোষ থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার কঠোর অবস্থান নেওয়ায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

  • গ্রিনল্যান্ড প্রশ্নে বিশ্বকে চাপে ফেলতে ট্রাম্প, বিরোধিতা করলেই শুল্কের হুমকিতে নতুন উত্তেজনা

    গ্রিনল্যান্ড প্রশ্নে বিশ্বকে চাপে ফেলতে ট্রাম্প, বিরোধিতা করলেই শুল্কের হুমকিতে নতুন উত্তেজনা

    এবিএনএ: গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনার বিরোধিতা করলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ওপর নতুন শুল্ক আরোপ করা হতে পারে—এমন হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এই মন্তব্যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে।

    হোয়াইট হাউসে এক বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, কোনো দেশ যদি গ্রিনল্যান্ড বিষয়ে তার অবস্থানের সঙ্গে একমত না হয়, তাহলে বাণিজ্যিক শুল্ক আরোপের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হবে। যদিও তিনি স্পষ্ট করেননি, কোন দেশগুলো এই সিদ্ধান্তের আওতায় পড়তে পারে কিংবা কোন আইনি কাঠামোর মাধ্যমে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

    গ্রিনল্যান্ড বর্তমানে ডেনমার্কের অধীন একটি স্বশাসিত অঞ্চল। ডেনমার্ক ছাড়াও ইউরোপের একাধিক দেশ ট্রাম্পের এই পরিকল্পনার প্রকাশ্য বিরোধিতা করছে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের ধারণা নিয়ে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।

    এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের একটি দ্বিদলীয় প্রতিনিধিদল গ্রিনল্যান্ড সফর করে স্থানীয় নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেছে। প্রতিনিধি দলে রিপাবলিকান সদস্যরাও ছিলেন, যারা জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে গ্রিনল্যান্ড দখলের আহ্বান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন এবং গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স-ফ্রেডেরিক নিলসেনের সঙ্গেও আলোচনা করেন।

    ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস কুনস জানান, সফরের উদ্দেশ্য ছিল স্থানীয় জনগণের মতামত শোনা এবং তা ওয়াশিংটনে পৌঁছে দিয়ে উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা করা।

    ট্রাম্প বরাবরই দাবি করে আসছেন, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গ্রিনল্যান্ড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, প্রয়োজনে ‘সহজ’ বা ‘কঠিন’—দুই পথেই যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে, যা সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেয় না।

    গ্রিনল্যান্ড প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ এবং আর্কটিক অঞ্চলে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে সেখানে অবস্থিত পিটুফিক ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের শতাধিক সেনা মোতায়েন রয়েছে, যা ক্ষেপণাস্ত্র নজরদারি ও সামরিক পর্যবেক্ষণের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

    ডেনমার্ক সতর্ক করে বলেছে, গ্রিনল্যান্ডে সামরিক পদক্ষেপ নিলে ন্যাটো জোটের ভিত্তিই প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। ইউরোপীয় মিত্ররাও ডেনমার্কের পাশে দাঁড়িয়ে জানিয়েছে, আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা ন্যাটোর সম্মিলিত দায়িত্ব।

    এই অবস্থায় ফ্রান্স, জার্মানি, নরওয়ে, সুইডেনসহ একাধিক দেশ গ্রিনল্যান্ডে সীমিত আকারে সামরিক ‘রেকি মিশন’ শুরু করেছে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ শিগগিরই আকাশ, স্থল ও নৌবাহিনীর সরঞ্জাম পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছেন।

    গ্রিনল্যান্ডের সংসদ সদস্য আজা কেমনিৎস বলেন, আন্তর্জাতিক সমর্থন বাড়ানো এখন সবচেয়ে জরুরি। তার ভাষায়, পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে, আর এই লড়াই দীর্ঘমেয়াদি।

    এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে গ্রিনল্যান্ড দখলের পক্ষে ও বিপক্ষে আলাদা বিল উত্থাপিত হওয়ায় বিষয়টি আরও জটিল রূপ নিয়েছে। ডেনমার্কের কর্মকর্তারা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ট্রাম্পের বক্তব্যকে তারা হালকাভাবে নিচ্ছেন না—কারণ তিনি যা বলেন, সেটাকেই বাস্তব পরিকল্পনা হিসেবে দেখেন।

  • ডনের কোটে ফেরার রহস্য ভাঙছে? ‘ডন ৩’-তে শাহরুখ খানের প্রত্যাবর্তন নিয়ে চাঞ্চল্যকর শর্ত

    ডনের কোটে ফেরার রহস্য ভাঙছে? ‘ডন ৩’-তে শাহরুখ খানের প্রত্যাবর্তন নিয়ে চাঞ্চল্যকর শর্ত

    এবিএনএ: বলিউডের জনপ্রিয় অ্যাকশন-ক্রাইম ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘ডন’-এর তৃতীয় কিস্তি ‘ডন ৩’ ঘিরে ফের উত্তেজনা ছড়িয়েছে। শুরুতে সিনেমাটির মুখ্য চরিত্রে রণবীর সিংয়ের নাম ঘোষণা করা হলেও শেষ পর্যন্ত তিনি প্রকল্পটি থেকে সরে দাঁড়ানোয় নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে শাহরুখ খানের সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন।

    ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, নির্দিষ্ট একটি শর্ত পূরণ হলে ‘ডন ৩’-তে আবারও ডনের চরিত্রে দেখা যেতে পারে শাহরুখ খানকে। জানা গেছে, সিনেমাটির পরিচালনার দায়িত্ব ‘জাওয়ান’খ্যাত পরিচালক অ্যাটলির হাতে থাকলে তবেই এই প্রস্তাবে আগ্রহী হতে পারেন তিনি।

    শাহরুখ খানের ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাতে বলা হচ্ছে, অ্যাটলির পরিচালনায় ছবিটির ভিজ্যুয়াল উপস্থাপন, অ্যাকশন স্কেল এবং আন্তর্জাতিক বাজারে গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়বে—এমন বিশ্বাস থেকেই এই শর্ত আরোপ করেছেন তিনি।

    উল্লেখ্য, ‘ডন’ ও ‘ডন ২’-তে শাহরুখ খানের অভিনয় দর্শক ও সমালোচকদের কাছ থেকে ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছিল। পরবর্তীতে ফ্র্যাঞ্চাইজিকে নতুন রূপ দিতে ‘ডন ৩’-তে রণবীর সিংকে নিয়ে পরিকল্পনা করা হলেও সময়সূচির জটিলতা, সৃজনশীল মতবিরোধসহ নানা কারণে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি।

    এখনও পর্যন্ত সিনেমাটির প্রযোজনা সংস্থা বা নির্মাতাদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি। তবে এই জল্পনা যদি সত্যি হয়, তাহলে ‘ডন’ সিরিজের পুরোনো জনপ্রিয়তা নতুন মাত্রায় ফিরে আসতে পারে বলে মনে করছেন সিনেপ্রেমীরা।

    এদিকে, শাহরুখ খানের পরবর্তী সিনেমা ‘কিং’ ২০২৬ সালে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। রেড চিলিজ এন্টারটেইনমেন্ট ও মারফ্লিক্স পিকচার্স প্রযোজিত এই সিনেমাটি পরিচালনা করছেন সিদ্ধার্থ আনন্দ, যিনি এর আগে ‘পাঠান’-এর মতো ব্লকবাস্টার উপহার দিয়েছেন।

  • অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে উত্তাপ ছড়াল মাঠেই, বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচে করমর্দন ছাড়াই শুরু বিতর্ক

    অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে উত্তাপ ছড়াল মাঠেই, বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচে করমর্দন ছাড়াই শুরু বিতর্ক

    এবিএনএ: অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাচ শুরুর আগেই তৈরি হয়েছে বিতর্ক। টসের মুহূর্তে দুই দলের অধিনায়কের মধ্যে সৌজন্যমূলক করমর্দন না হওয়ায় ক্রীড়াঙ্গনে শুরু হয়েছে আলোচনা।

    শনিবার অনুষ্ঠিত ম্যাচে বাংলাদেশের নিয়মিত অধিনায়ক আজিজুল হাকিম টসের সময় মাঠে উপস্থিত না থাকায় সহ-অধিনায়ক জাওয়াদ আবরার দলকে প্রতিনিধিত্ব করেন। ভারতের পক্ষে অধিনায়ক আয়ুশ মাত্রে কয়েন নিক্ষেপ করেন, যেখানে ভাগ্য বাংলাদেশ দলের পক্ষে যায়।

    তবে টস সম্পন্ন হওয়ার পরপরই আয়ুশ দ্রুত সরে যান এবং জাওয়াদ আবরারের সঙ্গে কোনো করমর্দন করেননি। একইভাবে বাংলাদেশের সহ-অধিনায়কের পক্ষ থেকেও সৌজন্য বিনিময়ের উদ্যোগ দেখা যায়নি। ম্যাচ রেফারি ডিন কস্কারের সামনেই এই অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়।

    এই ঘটনা ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে সাম্প্রতিক এশিয়া কাপে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে। সে সময় রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ভারতীয় ক্রিকেটাররা পাকিস্তান দলের সঙ্গে করমর্দন এড়িয়ে গিয়েছিলেন, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দেয়।

    বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার রাজনৈতিক ও ক্রিকেটীয় সম্পর্কের টানাপোড়েনই অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ের ম্যাচেও প্রভাব ফেলেছে। আইপিএলে মোস্তাফিজুর রহমানকে না নেওয়া, নিরাপত্তা ইস্যুতে ভবিষ্যৎ টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং আইসিসি-বিসিবির টানাপোড়েন—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে।

    সব মিলিয়ে বড়দের ক্রিকেটের উত্তেজনা ও বৈরিতার ছায়া এবার অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ের ম্যাচেও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন ক্রীড়া বিশ্লেষকরা।

    এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আগে ব্যাট করতে নেমে ভারতীয় অনূর্ধ্ব-১৯ দল ৩ উইকেট হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৭১ রান।

  • ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হলে গণতন্ত্রই একমাত্র পথ: তারেক রহমান

    ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হলে গণতন্ত্রই একমাত্র পথ: তারেক রহমান

    এবিএনএ: গুম, খুন ও নানা ধরনের নির্যাতনের প্রতিটি ঘটনার ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হলে আগামী দিনে বাংলাদেশে অবশ্যই একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা জরুরি—এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

    শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে চীন-মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ ও ‘মায়ের ডাক’-এর উদ্যোগে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

    তারেক রহমান বলেন, যদি আবারও দায়িত্বশীল ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের সুযোগ হাতছাড়া হয়, তবে তা গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আত্মত্যাগকারী শহীদদের প্রতি চরম অবমাননা হবে। তিনি বলেন, ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, গত ১৬ বছরে গুম ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তি এবং সাম্প্রতিক আন্দোলনের শহীদদের আত্মত্যাগ তখন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে।

    তিনি আরও বলেন, দেশের প্রতিটি অন্যায়ের বিচার নিশ্চিত করতে হলে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী পরিচালিত একটি সরকার দরকার—যে সরকার নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়াবে এবং আইনের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে।

    নির্যাতনের শিকার পরিবারগুলোর উদ্দেশে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, আপনাদের কষ্ট যেন বৃথা না যায়, সে লক্ষ্যে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার একমাত্র পথ হচ্ছে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা।

    এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, একটি মহল পরিকল্পিতভাবে গণতন্ত্রের পথে বাধা সৃষ্টি করতে চায়। বিভিন্ন বিতর্ক ও বিভ্রান্তি ছড়িয়ে জনগণের সামনে তৈরি হওয়া গণতান্ত্রিক সুযোগ নষ্ট করার অপচেষ্টা চলছে।

    শেষে তিনি দল-মত নির্বিশেষে গণতন্ত্রে বিশ্বাসী সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, যাতে কোনো ষড়যন্ত্রই জনগণের ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের পথ রুদ্ধ করতে না পারে।