Month: November 2025

  • জ্বালানি তেলের নতুন মূল্য কার্যকর ১ ডিসেম্বর থেকে, ভোক্তাদের বাড়তি চাপ

    জ্বালানি তেলের নতুন মূল্য কার্যকর ১ ডিসেম্বর থেকে, ভোক্তাদের বাড়তি চাপ

    এবিএনএ:  দেশের ভোক্তা পর্যায়ে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে সরকার। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিশ্ববাজারে তেলের দামের ওঠানামার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এবার স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে ডিসেম্বর মাসের জন্য নতুন মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।

    রবিবার (৩০ নভেম্বর) জারি করা এক সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নতুন মূল্য অনুযায়ী প্রতি লিটার ডিজেল, পেট্রোল, অকটেন ও কেরোসিনের দাম ২ টাকা করে বৃদ্ধি করা হয়েছে। আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে এই নতুন মূল্য কার্যকর হবে।

    নতুন নির্ধারিত দরে—
    ডিজেল: প্রতি লিটার ১০৪ টাকা (আগে ছিল ১০২ টাকা)
    অকটেন: প্রতি লিটার ১২৪ টাকা (আগে ছিল ১২২ টাকা)
    পেট্রোল: প্রতি লিটার ১২০ টাকা (আগে ছিল ১১৮ টাকা)
    কেরোসিন: প্রতি লিটার ১১৬ টাকা (আগে ছিল ১১৪ টাকা)

    মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ওঠানামা বিবেচনায় দেশে প্রাইসিং ফর্মুলা অনুযায়ী মাসিক ভিত্তিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে দাম সমন্বয় করা হচ্ছে। এর ফলে দেশীয় বাজারে তুলনামূলক সাশ্রয়ী দামে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি তেলের এই মূল্যবৃদ্ধি পরিবহন খাত, কৃষি উৎপাদন ও নিত্যপণ্যের দামে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে সরকার বলছে, স্বচ্ছ ও প্রাতিষ্ঠানিক মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

    নতুন মূল্য কার্যকর হওয়ার পর ভোক্তাদের বাড়তি খরচ বহনে প্রস্তুত থাকার পরামর্শ দিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

  • গাজায় রক্তপাত থামছে না: ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা পেরিয়েছে ৭০ হাজারের সীমা

    গাজায় রক্তপাত থামছে না: ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা পেরিয়েছে ৭০ হাজারের সীমা

    এবিএনএ:  যুদ্ধবিরতির মধ্যেও থামছে না গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা। ফিলিস্তিন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সংঘাত শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা পেরিয়েছে ৭০ হাজারের বেশি। শনিবার (২৯ নভেম্বর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে চলমান হামলায় এখন পর্যন্ত ৭০ হাজার ১০০ জনের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭০ হাজার ৯০০ জনের বেশি। নিহতদের বড় অংশই শিশু, নারী এবং নিরীহ বেসামরিক মানুষ।

    দক্ষিণ গাজার নাসের হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানান, খান ইউনিসের বেনি সুহাইলা এলাকায় একটি ড্রোন হামলায় দুই ফিলিস্তিনি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তাদের বয়স মাত্র ৮ ও ১১ বছর। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।

    এছাড়াও শনিবার ইসরায়েলি বাহিনী গাজার বিভিন্ন এলাকায় স্থল, নৌ ও বিমান হামলা চালায়। এসব হামলায় বহু পরিবার ধ্বংস হয়েছে, অনেকে এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

    অপরদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি, তারা ইসরায়েল নিয়ন্ত্রিত এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করা সন্দেহভাজন তিন জনকে গুলি করেছে। দক্ষিণ গাজায় আরও একজন নিহত হওয়ার কথাও নিশ্চিত করেছে তারা।

    হামাস অভিযোগ করেছে, ইসরায়েল ইচ্ছাকৃতভাবে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে। হামাস মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর প্রতি চাপ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বলেছে, যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিকভাবে কঠোর ভূমিকা নিতে হবে।

    কূটনৈতিক মহলের মতে, দীর্ঘমেয়াদী এই সংঘাতের সমাধানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত একটি পরিকল্পনা এখনও আলোচনার প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। এই পরিকল্পনায় আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েন, অন্তর্বর্তীকালীন কর্তৃপক্ষ গঠন এবং ভবিষ্যতে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ভিত্তি তৈরির প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

    গাজার পাশাপাশি উত্তেজনা বেড়েছে পশ্চিম তীরেও। ফিলিস্তিনিদের অভিযোগ, গত বৃহস্পতিবার সেখানে আত্মসমর্পণের পরও দুই ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করেছে ইসরায়েলি সৈন্যরা। আরব টেলিভিশনে প্রচারিত ফুটেজে দেখা যায়, দুই ব্যক্তি হাত তুলে আত্মসমর্পণ করার পরও তাদের লক্ষ্য করে গুলি করা হয়।

    গাজায় সহিংসতার মাত্রা বাড়তে থাকায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং জরুরি মানবিক সহায়তা পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছে।

  • খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থায় উন্নতি নেই, বিদেশে চিকিৎসা নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি: জরুরি সংবাদ সম্মেলনে রিজভী

    খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থায় উন্নতি নেই, বিদেশে চিকিৎসা নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি: জরুরি সংবাদ সম্মেলনে রিজভী

    এবিএনএ: বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থায় এখনও কোনো উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। তিনি আগের মতোই জটিল স্বাস্থ্য অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

    রবিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, “বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি। বিদেশে চিকিৎসার বিষয়ে মেডিকেল বোর্ড এখনও কোনো চূড়ান্ত মতামত দেয়নি। বোর্ডের পরামর্শ ছাড়া এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়।”

    তিনি আরও জানান, খালেদা জিয়ার অসুস্থতার কারণে ডিসেম্বর মাসে বিজয় দিবস উপলক্ষে বিএনপির সব কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে। দলের পক্ষ থেকে দেশবাসীর প্রতি তার সুস্থতার জন্য দোয়া করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

    হাসপাতালের সামনে বিএনপি নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ভিড় প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, “অতিরিক্ত ভিড় হলে চিকিৎসায় বিঘ্ন ঘটে। তাই সবাইকে হাসপাতালের সামনে ভিড় না করে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দোয়া করার অনুরোধ করছি।”

    তিনি জানান, দলের পক্ষ থেকে নিয়মিতভাবে চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। মেডিকেল বোর্ডই খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছে এবং সবশেষ তথ্য জানাচ্ছে।

    গত বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে হঠাৎ শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয় খালেদা জিয়াকে। প্রথমে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং পরে সিসিসিইউতে স্থানান্তর করা হয়।

    এর আগে অক্টোবরেও স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি। কয়েক দিনের চিকিৎসা শেষে বাসায় ফিরে আসেন। প্রায় ৮০ বছর বয়সী বিএনপি চেয়ারপারসন দীর্ঘদিন ধরে লিভার সিরোসিস, কিডনি, হার্ট, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিসসহ নানা জটিল রোগে ভুগছেন।

    গত মে মাসে লন্ডন থেকে উন্নত চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরে তিনি ঢাকায় নিজ বাসায় চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে ছিলেন। লন্ডনে অবস্থানকালে ‘লন্ডন ক্লিনিকে’ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নিয়েছিলেন তিনি। তবে গুরুতর ঝুঁকি বিবেচনায় লিভার প্রতিস্থাপন করা হয়নি বলেও জানানো হয়।

    দলীয় নেতাদের মতে, খালেদা জিয়ার বিদেশে উন্নত চিকিৎসা জরুরি হলেও এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে চিকিৎসক বোর্ড।

  • ১১ ডিসেম্বর স্কুল ভর্তির ডিজিটাল লটারি: সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে অপেক্ষা এখন ভাগ্যের

    ১১ ডিসেম্বর স্কুল ভর্তির ডিজিটাল লটারি: সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে অপেক্ষা এখন ভাগ্যের

    এবিএনএ: ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে দেশের সরকারি ও বেসরকারি স্কুলগুলোতে প্রথম থেকে নবম শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তি এবারও অনুষ্ঠিত হবে ডিজিটাল লটারির মাধ্যমে। আগামী ১১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে এ বছরের লটারি কার্যক্রম। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মাধ্যমিক শাখার পরিচালক প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল।

    মাউশি জানায়, ২১ নভেম্বর থেকে অনলাইনে ভর্তি আবেদন গ্রহণ শুরু হয়, যা চলবে ৫ ডিসেম্বর বিকেল ৫টা পর্যন্ত। আবেদনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ১১ ডিসেম্বর স্বয়ংক্রিয় ডিজিটাল লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী নির্বাচিত করা হবে। নির্বাচিত শিক্ষার্থীরাই তাদের পছন্দের স্কুলে ভর্তির সুযোগ পাবেন।

    ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে দেশের মোট ৪ হাজার ৪৮টি সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয়ে প্রথম থেকে নবম শ্রেণিতে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন হবে। এর মধ্যে সরকারি বিদ্যালয় ৬৮৮টি এবং বেসরকারি বিদ্যালয় ৩,৩৬০টি। এ বছর মোট শূন্য আসন রয়েছে ১১,৯৩,২৮১টি। এর মধ্যে সরকারি স্কুলে ১,২১,০৩০টি এবং বেসরকারি স্কুলে ১০,৭২,২৫১টি আসন খালি রয়েছে।

    ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সরকারি স্কুলের ১ লাখ ২১ হাজার ৩০টি আসনের বিপরীতে ২ লাখ ৬০ হাজার ২৪৪টি আবেদন জমা পড়েছে। এছাড়া পছন্দক্রম দেওয়া হয়েছে ৩ লাখ ৭৫ হাজার ৭২৮টি। অপরদিকে, বেসরকারি স্কুলের ১০ লাখ ৭২ হাজার ২৫১টি আসনের বিপরীতে আবেদন করেছে ৯৮,৭৬২ শিক্ষার্থী, যেখানে পছন্দক্রমের সংখ্যা ১ লাখ ৮০ হাজার ৮৬২টি।

    আবেদন গ্রহণের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর মাউশি থেকে নতুন কোনো আপডেট জানানো না হলেও অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা এখন লটারির ফলাফলের অপেক্ষায়।

    অনলাইন জনভর্তি ব্যবস্থার মাধ্যমে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও আধুনিক ভর্তি প্রক্রিয়া নিশ্চিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

  • লিবিয়া থেকে জীবনের দ্বিতীয় সুযোগে দেশে ফিরছেন ১৭৩ বাংলাদেশি: রাষ্ট্রদূতের বিশেষ বার্তা

    লিবিয়া থেকে জীবনের দ্বিতীয় সুযোগে দেশে ফিরছেন ১৭৩ বাংলাদেশি: রাষ্ট্রদূতের বিশেষ বার্তা

    এবিএনএ: লিবিয়া থেকে অবশেষে দেশে ফিরছেন দীর্ঘদিন আটক থাকা ১৭৩ জন বাংলাদেশি নাগরিক। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)-এর সহায়তায় ত্রিপোলির তাজুরা ডিটেনশন সেন্টার থেকে তাদের দেশে ফেরার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। বুরাক এয়ারলাইন্সের ইউজেড-২২২ ফ্লাইটে তারা সোমবার সকালে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন বলে নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ দূতাবাস।

    প্রত্যাবাসন কার্যক্রম সরাসরি তদারকি করেন লিবিয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মুহাম্মদ খায়রুল বাশার। তিনি অভিবাসন অধিদপ্তরের অভ্যর্থনা সেন্টারে উপস্থিত থেকে প্রত্যাবাসিতদের বিদায় জানান। এ সময় দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) এবং লিবিয়ার অভিবাসন বিভাগের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

    রাষ্ট্রদূত মানবিক সহায়তার এই উদ্যোগকে সফলভাবে সম্পন্ন করতে সহযোগিতা করায় লিবিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং আইওএম-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি প্রত্যাবাসিতদের উদ্দেশে বলেন, “আপনারা অনেক বড় বিপদ থেকে রক্ষা পেয়েছেন। ভূমধ্যসাগরের প্রাণঘাতী পথ থেকে বেঁচে ফেরা নিঃসন্দেহে দ্বিতীয় জীবনের মতো। দেশে ফিরে নতুনভাবে জীবন শুরু করার এটাই সুবর্ণ সুযোগ।”

    তিনি আরও বলেন, “অবৈধ পথে বিদেশ যাওয়ার চেষ্টায় জীবন, সম্মান, সময় ও অর্থ—সবই ঝুঁকির মুখে পড়ে। তাই বৈধ পথেই দক্ষতা উন্নয়ন এবং নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে হবে।”

    রাষ্ট্রদূত সবাইকে দেশে ফিরে মানবপাচার ও অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান। পাশাপাশি পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেন। তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, দেশের দূতাবাস ভবিষ্যতেও অভিবাসীদের পাশে থাকবে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করবে।

    শেষে রাষ্ট্রদূত প্রত্যাবাসিতদের সফল পুনর্বাসনের জন্য সরকারের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে ওঠার উৎসাহ দেন।

  • উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় ৭৫ বছরে মোংলা বন্দর: সমৃদ্ধ বাণিজ্যের নতুন দিগন্ত

    উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় ৭৫ বছরে মোংলা বন্দর: সমৃদ্ধ বাণিজ্যের নতুন দিগন্ত

    এবিএনএ,মোংলা: প্রতিষ্ঠার ৭৫ বছর ৭৬ বছরে পর্দাপণ দেশের দ্বিতীয় সামুদ্রিক বন্দর মোংলা। এক সময়ের মৃত বন্দরটি এখন একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠান। শুধু তাই নয় এবার অপার সম্ভাবনাময় বন্দর হিসেবে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের নজরও কেড়েছে এই বন্দর। বলা যায় এই বন্দরটি হতে যাচ্ছে আগামী দিনের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সোপান। দীর্ঘ ৭৫ বছরে ধারাবাহিকভাবে মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বেড়েছে। বৈদেশিক বাণিজ্যের ২৫ ভাগই পরিচালিত হচ্ছে দেশের এই সমুদ্র বন্দর দিয়ে।

    বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, দেশের অর্থনীতির লাইফ লাইন হিসেবে খ্যাত মোংলা বন্দর আগের চেয়ে অনেক উন্নত হয়েছে। প্রতি বছর বন্দরের আয়ও বাড়ছে। নিজস্ব তহবিল থেকে নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দেশি বিদেশিদের বিনিয়োগ।

    আধুনিক কার্গো-কনটেইনার হ্যান্ডলিং ইকুইপমেন্ট সংযোজন, ইয়ার্ড ক্যাপাসিটি বৃদ্ধি, তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কর্মকর্তা-কর্মচারী, শ্রমিক ও বন্দর ব্যবহারকারীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলেই আজকের মোংলা বন্দর একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রুপান্তরিত হয়েছে। বন্দর ব্যবহারকারীরা এ প্রতিবেদককে বলেন, মোংলা বন্দরকে আরো যুগোপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে। বঙ্গোপসাগর থেকে জেটি পর্যন্ত ১৩১ কিলোমিটার নৌপথের নাব্যতা ধরে রাখা জরুরী। এটা বন্দরের জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ। আগামী বছরগুলোতে জাহাজ আগমন বাড়বে। এখন থেকে বন্দর চ্যানেলের ড্রেজিং কার্যক্রমকে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ দিতে হবে বন্দর কর্তৃপক্ষকে।

    বন্দরের সিনিয়র উপপরিচালক (জনসংযোগ) মো. মাকরুজ্জামান বলেন, ৭৫ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে বন্দর কর্তৃপক্ষ নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে বন্দর জেটি থেকে স্বাধীনতা চত্বর পর্যন্ত র‍্যালি, শান্তির প্রতীক কবুতর ও বেলুন উড়িয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্বোধন। সকাল ১০টায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, গীতা ও বাইবেল পাঠ ও পরে বন্দরের উন্নয়ন এবং অগ্রগতি নিয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এম শাহীন রহমানের শুভেচ্ছা বক্তব্য।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির কেক কাটা, আলোচনা সভা, এরপর বেলা ১১টায় সর্বোচ্চ বন্দর ব্যবহারকারীদের ক্রেস্ট প্রদান, মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা, কৃতিত্বপূর্ণ কাজের জন্য নির্বাচিত কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বিদায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্রেস্ট প্রদান। এ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের পদস্থ কর্মকর্তা, সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তা, বিভিন্ন আমদানি রফতানিকারক ব্যবসায়ী ও তাদের প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, বন্দরের পদস্থ কর্মকর্তা, বন্দর ব্যবহারকারী, খুলনা ও বাগেরহাটের চেম্বার অব কমার্স সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের প্রতিনিধি, শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ, সিবিএ ,স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা। দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে মোংলা বন্দরের অগ্রগতি কামনায় দোয়া অনুষ্ঠান এবং দুপুর দেড়টায় মধ্যাহ্ন ভোজের মধ্যদিয়ে শেষ হবে বন্দরের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সব আনুষ্ঠানিকতা।

    ১৯৫০ সালের ১ ডিসেম্বর পশুর নদীর জয়মনির ঘোলে ‘দি সিটি অব লিয়নস’ নামে প্রথম ব্রিটিশ পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ নোঙ্গরের মাধ্যমে মোংলা বন্দরের কার্যক্রম শুরু হয়। সে সময় চালনা এ্যাংকারেজ পোর্ট নামে মোংলা সমুদ্র বন্দরের যাত্রা শুরু হয়েছিল।

  • ৬ লেন দাবিতে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কে ব্লকেড, দীর্ঘ যানজট

    ৬ লেন দাবিতে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কে ব্লকেড, দীর্ঘ যানজট

    এবিএনএ,চট্টগ্রাম : দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ক ৬ লেন করার দাবিতে মহাসড়কে ব্লকেড করে বিক্ষোভ করছেন স্থানীয়রা। রবিবার (৩০ নভেম্বর) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার কেরানিহাট এলাকায় বিভিন্ন পেশার মানুষ জড়ো হয়ে মহাসড়কে অবস্থান নিলে বন্ধ হয়ে যায় যানচলাচল।

    সকাল সাড়ে নয়টার দিকে লোহাগাড়ার আমিরাবাদ স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে ছয় লেনের দাবিতে নানা স্লোগান দিচ্ছেন অবরোধকারীরা। এ সময় মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ এক কিলোমিটার এলাকায় যানজট সৃষ্টি হয়েছে।

    বিক্ষোভকারীরা বলেন, একসময় দেশের অন্যতম ব্যস্ত এই মহাসড়কটি এখন ‘মৃত্যুফাঁদে’ পরিণত হয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও ঘটছে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা।তাদের অভিযোগ, পর্যটন নগরী যাওয়ার একমাত্র সড়কটি প্রশস্তকরণের আশ্বাস মিললেও বাস্তবে কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি।

    বিক্ষোভকারী বজ্রকন্ঠে বলেন, সংবাদপত্র খুললেই দেখি দুর্ঘটনার খবর। তারা আরও বলেন, আমরাও ভয়ে থাকি—আজ না হয় কাল আমাদের ওপর এসে পড়ে। এত অনুরোধের পরও কাজ না হওয়ায় বাধ্য হয়েই আজ সড়কে নেমেছি।

    চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক উন্নয়ন আন্দোলনের সংগঠক তামিম মির্জা বলেন, এর আগে একই দাবিতে স্মারকলিপি দেওয়া, মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। পরে সংবাদ সম্মেলন করে মহাসড়ক অবরোধের ঘোষণা দেওয়া হয়। এরপরও সরকারের পক্ষ থেকে দাবির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ঘোষণা না আসায় মহাসড়ক অবরোধ করা হয়েছে।

    শুধু সাতকানিয়ার মানুষের যাতায়াতই নয়, বিশ্বের বৃহত্তর সমুদ্র সৈকত ও পর্যটন নগরী হলো কক্সবাজার। প্রতিদিন লাখো মানুষ ও পর্যটক এ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করেন। অথচ বাস্তবে বহু অংশ এখনো অত্যন্ত সরু, কোথাও কোথাও পাড়ার গলির চেয়েও কম প্রশস্ত। জাঙ্গালিয়ার অংশটি ঢালু ও আঁকাবাঁকা হওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বাড়ে।তাছাড়াও রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মানবিক সহায়তা পৌঁছানো ও রাতে লবণবাহী ট্রাকসহ—সবকিছুর জন্যই এই সড়ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিক্ষোভকারীদের দাবি, চলাচলের কারণে রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে পড়ে, এতে দুর্ঘটনা আরও বেড়ে যায়। এরপরও দফায় দফায় আশ্বাস মিললেও দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন হয়নি।এর আগে, গত ৬ এপ্রিল জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করে তারা প্রধান উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি দেন।

    ১১ এপ্রিল সড়ক ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের কাছেও স্মারকলিপি দেওয়া হয়। কিন্তু দীর্ঘদিনেও কার্যকর কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় স্থানীয়রা আবারও আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানান।

    সকালের অবরোধে মহাসড়কের দুই দিকে শতাধিক যানবাহন আটকে পড়ে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিক্ষোভ আরও জোরালো হচ্ছে বলে জানা গেছে। পরে সাবেক সাংসদ শাহজাহান চৌধুরীর আশ্বাসে অবরোধকারীরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন।

  • তিনটি সক্রিয় ফল্টে ঘিরে ভয়াবহ ভূমিকম্প ঝুঁকিতে বাংলাদেশ: বিশেষজ্ঞদের জরুরি সতর্কবার্তা

    তিনটি সক্রিয় ফল্টে ঘিরে ভয়াবহ ভূমিকম্প ঝুঁকিতে বাংলাদেশ: বিশেষজ্ঞদের জরুরি সতর্কবার্তা

    এবিএনএ: বাংলাদেশ ভূমিকম্পের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে তিনটি সক্রিয় টেকটোনিক ফল্ট লাইনের কারণে। দেশটি ভারত, মিয়ানমার ও ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থান করায় ভূমিকম্পের সম্ভাবনা এখানে স্বাভাবিকভাবেই বেশি। বিশেষজ্ঞদের মতে, সিলেটের ডাউকি ফল্ট, চট্টগ্রাম-টেকনাফের চিটাগং–আরাকান ফল্ট এবং মিয়ানমারের সাগাইং ফল্ট মিলিয়ে বাংলাদেশ এখন অত্যন্ত বিপজ্জনক ভূমিকম্প-সংবেদনশীল অঞ্চলে পরিণত হয়েছে।

    দ্রুত নগরায়ণ, আবাসিক ঘনবসতি, দুর্বল ভবন কাঠামো, বিল্ডিং কোড উপেক্ষা এবং সংকীর্ণ সড়ক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। বড় ধরনের কোনো ভূমিকম্প হলে বিপর্যয়ের মাত্রা হতে পারে ভয়াবহ।

    ‘আর্থকুয়েক অ্যাওয়ারনেস, সেফটি প্রটোকল অ্যান্ড ইমার্জেন্সি প্রিপারেডনেস’ শীর্ষক সেমিনারে এসব তথ্য তুলে ধরেন দেশি ও বিদেশি বিশেষজ্ঞরা। শনিবার রাজধানীর হোটেল ওয়েস্টিনে অনুষ্ঠিত এই সেমিনারের আয়োজন করে জেসিএক্স ডেভেলপমেন্টস লিমিটেড। এতে অংশ নেন দেশি-বিদেশি স্থপতি, প্রকৌশলী, রিয়েল এস্টেট উদ্যোক্তা, নীতিনির্ধারক, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।

    সেমিনারে বক্তারা বলেন, নিরাপদ অবকাঠামো নির্মাণ, বিদ্যমান ভবনের স্ট্রাকচারাল অডিট, মান নিয়ন্ত্রণ, জরুরি উদ্ধার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রাথমিক সতর্কবার্তা ব্যবস্থা উন্নত করা এখনই জরুরি। পাশাপাশি নাগরিকদের মধ্যে নিয়মিত ভূমিকম্প ড্রিল, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিবারভিত্তিক প্রস্তুতি গড়ে তোলার পরামর্শ দেন তারা।

    সেমিনারে উপস্থিত জাপানি ভূমিকম্প-সহনশীল স্থাপত্য বিশেষজ্ঞ কেসিরো সাকো এবং হেসাইয়ে সুগিয়ামা জানান, জাপানের অভিজ্ঞতা থেকে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা নিতে পারে। আধুনিক টেকসই নির্মাণ, ভূমিকম্প প্রতিরোধী প্রযুক্তি এবং মানসম্মত অবকাঠামো নির্মাণ বড় বিপর্যয় ঠেকাতে সক্ষম।

    জেসিএক্স ডেভেলপমেন্টসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ইকবাল হোসেন চৌধুরী বলেন, “ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক ভূমিকম্প মানুষকে সতর্ক করছে। অপ্রস্তুত অবকাঠামো ও ঘনবসতির কারণে বড় কম্পন হলে ভয়াবহ ক্ষতি হতে পারে।”

    বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, গত ১০০ বছরে বাংলাদেশে ২০০টির বেশি ভূমিকম্প রেকর্ড হয়েছে, আর ২০২৪ সাল থেকে কম্পনের হার আরও বেড়েছে। কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৬ সালের এক গবেষণায় বলা হয়, গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার ‘মেগাথার্স্ট’ ফল্ট থেকে ৯ মাত্রার ভূমিকম্প সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। সিলেট থেকে টেকনাফ পর্যন্ত সাবডাকশন জোনে গত ৮০০-১০০০ বছরের সঞ্চিত শক্তি এখনও মুক্ত হয়নি—যা সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, সময় থাকতে প্রস্তুতি না নিলে আসন্ন বিপর্যয় সামাল দেওয়া কঠিন হবে।

  • জনগণের স্বপ্ন উপেক্ষিত হলে আবারও ঘটতে পারে গণঅভ্যুত্থান: সতর্ক করলেন নাহিদ ইসলাম

    জনগণের স্বপ্ন উপেক্ষিত হলে আবারও ঘটতে পারে গণঅভ্যুত্থান: সতর্ক করলেন নাহিদ ইসলাম

    এবিএনএ: জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, জনগণের মৌলিক চাহিদা ও আকাঙ্ক্ষা বারবার অবহেলিত হলে ভবিষ্যতে আবারও নতুন গণঅভ্যুত্থান ঘটতে পারে। তিনি জানান, বিগত সময়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় এমন এক পক্ষপাতদুষ্ট ব্যবস্থা তৈরি হয়েছিল, যেখানে ক্ষমতা ছিল লুটেরা ও মাফিয়া শ্রেণির হাতে এবং সাধারণ মানুষ বঞ্চিত ছিল তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে।

    শনিবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে অনুষ্ঠিত চতুর্থ বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম এসব কথা বলেন। সম্মেলনের আয়োজক ছিল ‘দৈনিক বণিক বার্তা’।

    তিনি বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের বৈষম্যমূলক নীতি মানুষের মধ্যে অসন্তোষ, ক্ষোভ ও পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা তৈরি করেছিল। তরুণদের নেতৃত্বে সেই প্রত্যাশা থেকে জন্ম নেয় জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান, যা ছিল বৈষম্য ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে একটি ন্যায্য আন্দোলন।

    বর্তমান চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, দেশের সামনে দুটি বড় সংকট—কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ ও শহরাঞ্চলের মধ্যবিত্ত এবং তরুণ সমাজের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করা। পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মৌলিক সেবায় ন্যায্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, নতুন রাষ্ট্রীয় বিন্যাসে নগর পরিবহন ব্যবস্থা, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, তরুণদের দক্ষতা বিকাশ ও মানসম্মত কর্মসংস্থানের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।

    প্রবাসীদের ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রবাসীরা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অংশ নিতে চান, কিন্তু ন্যায়ভিত্তিক অর্থনীতি ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা ছাড়া তা কখনো স্থায়ী হবে না। দুর্নীতি দমন ও সুশাসন নিশ্চিত না হলে বিদেশি বিনিয়োগও আকৃষ্ট হবে না।

    তিনি আরও বলেন, সমাজে যদি ফ্যাসিবাদী মনোভাব বজায় থাকে, তাহলে কোনো সংস্কার বা উন্নয়ন স্থায়ী হবে না। পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনতে কার্যক্রম চলছে, এবং দেশকে অর্থনৈতিকভাবে পুনর্গঠনে আমরা সচেষ্ট থাকবো।

  • টেক্টর ভাইদের বিপজ্জনক জুটি ভাঙলেন মেহেদী, ম্যাচে ফিরল বাংলাদেশ

    টেক্টর ভাইদের বিপজ্জনক জুটি ভাঙলেন মেহেদী, ম্যাচে ফিরল বাংলাদেশ

    এবিএনএ: সিরিজের দ্বিতীয় টি-২০ ম্যাচে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমেই ঝড়ো সূচনা করে আয়ারল্যান্ড। পল স্টার্লিং ও টিম টেক্টরের ব্যাটে মাত্র কয়েক ওভারেই স্কোরবোর্ডে জমা হয় ৫৭ রান। পাওয়ার প্লে শেষে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ প্রায় পুরোপুরি ছিল অতিথিদের হাতে। ঠিক তখনই বল হাতে এসে বাংলাদেশকে ম্যাচে ফেরালেন শেখ মেহেদী।

    দ্বিতীয় উইকেটে ব্যাট করতে নামা হ্যারি টেক্টরকেও বেশি সময় টিকতে দেননি মেহেদী। তার নিখুঁত লাইনে ঘুরতে থাকা বলে বিভ্রান্ত হয়ে মাত্র ১১ রান করে ফেরেন টেক্টর। এরপর একই ওভারে আরেক টেক্টর ভাই টিম টেক্টরকেও ফিরিয়ে বাংলাদেশের স্বস্তি ফেরান মেহেদী। ২৫ বলে ৪ চার ও ২ ছক্কায় ৩৮ রানে আউট হন তিনি।

    ১২ ওভার শেষে আয়ারল্যান্ডের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ১০৪ রান। ক্রিজে আছেন লরকান টাকার ও জর্জ ডকরেল। শুরুতে আগ্রাসী ব্যাটিং করলেও মেহেদীর নিখুঁত স্পিন ও টাইগার বোলারদের disciplined বোলিংয়ে রান তুলতে এখন ধুঁকছেন অতিথিরা।

    পল স্টার্লিং আগে ১৪ বলের ঝড়ো ক্যামিওতে ২৯ রান করে আউট হন। তার ইনিংসে ছিল তিনটি চার ও দুটি ছক্কা।

    চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্টেডিয়ামের আজকের ম্যাচে বাংলাদেশ একাদশে হয়েছে তিন পরিবর্তন। বাদ পড়েছেন জাকের আলী, শরিফুল ইসলাম ও রিশাদ হোসেন। তাদের বদলে মাঠে নেমেছেন নুরুল হাসান সোহান, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ও শেখ মাহেদী।

    বাংলাদেশ একাদশ: তানজিদ তামিম, পারভেজ ইমন, লিটন দাস, সাইফ হাসান, তাওহীদ হৃদয়, নুরুল হাসান, শেখ মাহেদী, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, তানজিম সাকিব, নাসুম আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান।

    আয়ারল্যান্ড একাদশ: পল স্টার্লিং, টিম টেক্টর, হ্যারি টেক্টর, লরকান টাকার, বেন ক্যালিটজ, জর্জ ডকরেল, গ্যারেথ ডিলানি, মার্ক এডায়ার, বেরি ম্যাককার্টি, ম্যাথু হামফ্রিজ, জস লিটিল।