ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে কঠিন সমঝোতার ইঙ্গিত, রাশিয়াকে অঞ্চল ছাড়তে চাপ দিচ্ছেন ট্রাম্প
শান্তি চুক্তির অংশ হিসেবে ভূখণ্ড ছাড়ে জেলেনস্কির ওপর মার্কিন চাপ, জার্মানিতে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের প্রস্তুতি


এবিএনএ: ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে একটি চুক্তির লক্ষ্যে রাশিয়ার কাছে কিছু অঞ্চল ছাড়তে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির ওপর চাপ অব্যাহত রেখেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জার্মান সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে ওয়াশিংটন কিয়েভের ওপর অবস্থান নরম করার কৌশল নিচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউক্রেনে সম্প্রতি দুর্নীতিসংক্রান্ত বিতর্ক সামনে আসার পর জেলেনস্কির অভ্যন্তরীণ অবস্থান কিছুটা নড়বড়ে হয়ে পড়ে। এই পরিস্থিতিকে যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক আলোচনায় প্রভাব বিস্তারের সুযোগ হিসেবে দেখছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শান্তি আলোচনা এগিয়ে নিতে সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) জার্মানিতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকে বসবেন মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ। সেখানে যুদ্ধ অবসানে প্রস্তাবিত শান্তি চুক্তির সর্বশেষ খসড়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে জেলেনস্কি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ডোনেটস্ক অঞ্চল থেকে ইউক্রেনীয় সেনা প্রত্যাহারে চাপ দিচ্ছে। এর মাধ্যমে পূর্ব ইউক্রেনের কিয়েভ-নিয়ন্ত্রিত এলাকায় একটি ‘মুক্ত অর্থনৈতিক অঞ্চল’ গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে, যা মস্কোর কৌশলগত স্বার্থের সঙ্গে জড়িত। তবে জেলেনস্কি স্পষ্ট করেছেন, কোনো ভূখণ্ড ছাড়ের সিদ্ধান্ত ইউক্রেনে গণভোট ছাড়া সম্ভব নয়। তিনি নিরাপত্তা নিশ্চয়তার দাবিতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ২০ দফা পাল্টা প্রস্তাবও দিয়েছেন।
এদিকে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান বলেছেন, ইউক্রেনে শান্তি প্রতিষ্ঠা খুব দূরে নয়। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনায় আগ্রহ প্রকাশ করেন। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ মন্তব্য করেন তিনি।
অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশ চেক প্রজাতন্ত্র ইউক্রেনকে নতুন কোনো আর্থিক সহায়তায় অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। একই সময়ে রাশিয়া ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক আকাশ হামলা চালিয়েছে। কিয়েভের দাবি, এক রাতেই চার শতাধিক ড্রোন ও বহু ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়, যার ফলে কয়েকটি অঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং জাপোরিঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র সাময়িকভাবে বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। এতে লাখো পরিবার বিদ্যুৎ সংকটে পড়েছে, যা আসন্ন শীতকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলছে।




