চুক্তিতে না এলে ভয়াবহ পরিণতি—কিউবাকে কড়া আল্টিমেটাম দিলেন ট্রাম্প
তেল রপ্তানিতে শুল্ক, মানবিক সংকটের হুঁশিয়ারি ও কিউবান অভিবাসী ফেরত পাঠানোর ইঙ্গিত দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট


এবিএনএ: ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযানের পর এবার ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের দেশ কিউবার ওপর চাপ বাড়ালেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হাভানাকে উদ্দেশ করে তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন—ওয়াশিংটনের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তিতে না এলে কিউবা অচিরেই ভয়াবহ মানবিক সংকটে পড়তে পারে।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন ট্রাম্প। ওই আদেশে বলা হয়, কোনো দেশ যদি কিউবায় তেল রপ্তানি করে, তাহলে সেই দেশের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করবে যুক্তরাষ্ট্র। এ সিদ্ধান্তকে কিউবার ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর কৌশল হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা।
এই আদেশের পর মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউডিয়া শিনবাউম এক বিবৃতিতে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের সরাসরি প্রভাব পড়বে কিউবার হাসপাতাল, খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা ও অন্যান্য মৌলিক সেবায়। এর ফলে দেশটিতে বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হতে পারে।
রোববার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, কিউবা যদি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসে এবং সমঝোতায় পৌঁছাতে চায়, তাহলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকতে পারে। তিনি দাবি করেন, চুক্তি হলে মানবিক সংকটের কোনো আশঙ্কা থাকবে না।
ট্রাম্প আরও বলেন, কিউবার বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। দেশটির কাছে পর্যাপ্ত অর্থ ও জ্বালানি নেই। এতদিন ভেনেজুয়েলার তেল ও অর্থনৈতিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল থাকলেও এখন সেই উৎস বন্ধ হয়ে গেছে।
উল্লেখ্য, গত ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে সামরিক অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্র। এর পর থেকেই ভেনেজুয়েলার জ্বালানি খাতের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেন ট্রাম্প, যার প্রভাব পড়েছে কিউবার অর্থনীতিতেও।
কিউবার কাছে ঠিক কী ধরনের শর্ত চান—তা স্পষ্ট না করলেও ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, সমঝোতায় না এলে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত কিউবান নাগরিকদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। এতে করে দুই দেশের সম্পর্ক আরও উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।




