নির্বাচন পিছিয়ে ক্ষমতা ধরে রাখার ছক? তিন উপদেষ্টার গোপন কৌশল নিয়ে ফাঁস হওয়া নানা তথ্য
অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতরের টানাপোড়েন, নির্বাচন বিলম্বের চাপ ও মব সন্ত্রাস—পর্দার আড়ালের রাজনীতিতে কী ঘটেছিল


এবিএনএ: অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতরে অন্তত তিনজন উপদেষ্টা নির্বাচন পেছানোর নানা কৌশলে সক্রিয় ছিলেন—এমন অভিযোগ রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আরেকজন উপদেষ্টার ভূমিকা ছিল পরিস্থিতিনির্ভর; তিনি দুই পক্ষের সঙ্গে সমঝোতা রেখে সময় পার করেছেন বলে জানা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ভাষ্য, এই গোষ্ঠীর কৌশলের অংশ হিসেবে মব সন্ত্রাসকে উসকে দিয়ে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে চাপ তৈরির চেষ্টা চলেছিল।
শুরুর দিকে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে ইতিবাচক ছিলেন। পরে সংস্কারের বিস্তৃত প্রস্তাব সামনে এলে দ্রুত ভোটের পথ থেকে তিনি সরে আসেন। রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে—এই সংস্কার-আলোচনার আড়ালে ক্ষমতার সময় বাড়ানোর হিসাব-নিকাশ ছিল, যেখানে তিন উপদেষ্টার চাপ বড় ভূমিকা রাখে।
উপদেষ্টাদের যুক্তি ছিল, দ্রুত ভোট হলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হবে এবং অপ্রত্যাশিত শক্তি সুবিধা নিতে পারে। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই যুক্তির পেছনে ছিল নিজেদের প্রভাব দীর্ঘায়িত করা এবং নির্দিষ্ট শক্তির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের কৌশল। জনচাপ ও ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায় শেষ পর্যন্ত এই পরিকল্পনা ধাক্কা খায়। আঞ্চলিক শক্তিগুলোর দ্রুত নির্বাচন চাওয়ার চাপও সিদ্ধান্ত বদলে প্রভাব ফেলে।
পর্দার আড়ালে নিয়মিত বৈঠক, প্রশাসনের ওপর প্রভাব বিস্তার এবং বিদেশি কূটনৈতিক মহলে বার্তা দেওয়ার চেষ্টা—সব মিলিয়ে উপদেষ্টাদের প্রভাব একসময় এতটাই বেড়ে যায় যে প্রধান উপদেষ্টা সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগতে থাকেন। লন্ডনে হওয়া বৈঠককে কেন্দ্র করে নির্বাচনমুখী হওয়ার প্রক্রিয়া এগোলেও তা ভেস্তে দিতে নানা মহলের তৎপরতা ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ে।
দেশের ভেতর থেকেও নির্বাচন ছাড়া বিকল্প নেই—এমন চাপ আসতে থাকে। তবু নির্বাচনবিরোধী তৎপরতা থামে না। প্রশাসনিক শৈথিল্য ও সহিংসতার ঘটনায় সময়মতো ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। বিশেষ কয়েকটি ঘটনার সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দেরিতে পৌঁছানো নিয়ে রহস্যের কথাও উঠে আসে।
রাজনৈতিক মহলের দাবি, প্রধান রাজনৈতিক শক্তিগুলো শুরু থেকেই নির্বাচনমুখী অবস্থান নেয় এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে। সেনাবাহিনী সতর্ক ছিল, সোশ্যাল মিডিয়ায়ও নানা আলামত দেখা যায়। অভিযোগ রয়েছে—উপদেষ্টাদের কেউ কেউ বিদেশ সফরে গিয়ে কূটকৌশলে যুক্ত ছিলেন, জনমত জরিপ প্রভাবিত করার চেষ্টাও হয়েছে।
নির্বাচনের দিনেও নির্দিষ্ট আসনের দিকে নজর ছিল একটি গোষ্ঠীর। তবে ফলাফল আসতে শুরু করলে পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে বুঝে বিকল্প পরিকল্পনা বাস্তবায়ন থেকে সরে আসে তারা। এসব ঘটনায় স্পষ্ট হয়েছে—নির্বাচন বিলম্বের পেছনে কেবল প্রশাসনিক অজুহাত নয়, ছিল ক্ষমতার হিসাব-নিকাশ ও পর্দার আড়ালের রাজনীতি।




