টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে বিস্ফোরণের মামলা শেষে বাংলাদেশ পাচ্ছে ৪২ মিলিয়ন ডলার
২০০৫ সালের ছাতকের ভয়াবহ বিস্ফোরণে ক্ষতিপূরণ আদায়ে ইকসিড ট্রাইব্যুনাল নাইকোকে জরিমানা করেছে


এবিএনএ: সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় অবস্থিত টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে ২০০৫ সালে সংঘটিত ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় বাংলাদেশ দীর্ঘদিনের আইনি লড়াই শেষে বড় জয় পেয়েছে। কানাডিয়ান কোম্পানি নাইকো রিসোর্সকে ৪২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ৫১৬ কোটি টাকা) বাংলাদেশকে ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর সেটেলমেন্ট অফ ইনভেস্টমেন্ট ডিসপিউটস (ICSID) ট্রাইব্যুনাল।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজানুর রহমান এই রায় নিশ্চিত করে জানান, সংস্থাটি বাংলাদেশকে মোট ৪২ মিলিয়ন ডলার দিতে বাধ্য হবে। এর মধ্যে গ্যাস নষ্ট হওয়ার দায়ে ৪০ মিলিয়ন ডলার এবং পরিবেশসহ অন্যান্য ক্ষতির জন্য ২ মিলিয়ন ডলার অন্তর্ভুক্ত।
২০০৫ সালের ৭ জানুয়ারি ও ২৪ জুন নাইকোর অনুসন্ধান কূপ খননকালে দুই দফায় বিস্ফোরণ ঘটে। এর ফলে টেংরাটিলার মজুদ গ্যাস পুড়ে যায় এবং আশপাশের সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হয়। বাংলাদেশি আদালত এই মামলাটি আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরিত করার পর ২০২০ সালে নাইকোকে দায়ী করা হয়।
প্রসঙ্গত, বিস্ফোরণের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশ গ্যাসের ক্ষতি বাবদ ১১৮ মিলিয়ন ডলার এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষতির জন্য ৮৯৬ মিলিয়ন ডলার দাবি করেছিল। এছাড়া, পরিবেশ ও স্বাস্থ্যগত ক্ষতির হিসাবও অন্তর্ভুক্ত করার আবেদন করা হয়েছিল।
গ্যাসক্ষেত্রটি ১৯৫৯ সালে আবিষ্কৃত হয় এবং পরের বছর কূপ খননের মাধ্যমে ১ হাজার ৯০ মিটার থেকে ১ হাজার ৯৭৫ মিটার গভীরতায় নয়টি গ্যাস স্তর পাওয়া যায়। টেংরাটিলা থেকে উত্তোলিত গ্যাস ছাতক সিমেন্ট ও পেপার মিলগুলোতে সরবরাহ করা হতো। ২৬ দশমিক ৪৬ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলনের পর কূপে পানি উঠে আসায় এটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। ২০০৩ সালে গ্যাসক্ষেত্রটি নাইকোর কাছে হস্তান্তরিত হয়, এবং তারপর ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে।
ইকসিডের এই রায়ে বাংলাদেশ দীর্ঘদিনের অধিকার আদায়ে একটি বড় জয় পেল। এর ফলে দেশের ক্ষতিপূরণ ও ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক সংস্থার মাধ্যমে বিনিয়োগ-বিবাদে শক্তিশালী অবস্থান নিশ্চিত হলো।




