প্রত্যর্পণ নিয়ে বার্তা দিলেন তারেক: শেখ হাসিনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে আইনি পথে
প্রথম সংবাদ সম্মেলনে অর্থনীতি পুনর্গঠন, কূটনীতি ও বিনিয়োগ ফেরাতে রোডম্যাপ তুলে ধরলেন বিএনপি চেয়ারম্যান


এবিএনএ: সদ্য সমাপ্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ের পর প্রথম আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-র প্রত্যর্পণ প্রসঙ্গে দলীয় অবস্থান পরিষ্কার করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান। তিনি বলেন, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে; কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকবে না।
শনিবার বিকেলে ঢাকার শাহবাগ এলাকার ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তারেক রহমান নতুন সরকারের সামনে থাকা বড় চ্যালেঞ্জগুলোর কথা তুলে ধরেন। তার ভাষ্য, ভঙ্গুর অর্থনীতি ও পুঁজি সংকট কাটানোই সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। ব্যাংকিং খাতে তারল্য জোরদার, ঋণপ্রবাহ বাড়ানো এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে দ্রুত সংস্কার শুরু হবে। পাশাপাশি নাগরিকের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রতিষ্ঠানগুলোতে পেশাদারিত্ব ও সুশাসন ফেরানোর প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
তরুণদের পাশাপাশি প্রবীণ, নারী ও প্রতিবন্ধীদের চাহিদা নীতিনির্ধারণে গুরুত্ব পাবে জানিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, সরকারের সিদ্ধান্তে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার প্রতিফলন থাকবে। আঞ্চলিক কূটনীতি প্রসঙ্গে তিনি জানান, দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা সার্ক-কে আবার কার্যকর করতে বাংলাদেশ উদ্যোগী ভূমিকা নেবে এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে দূরত্ব কমাতে সংলাপ জোরদার করা হবে।
বিদেশি বিনিয়োগ ও চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে প্রশ্নে তারেক রহমান বলেন, বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ-এর মতো যেকোনো আন্তর্জাতিক উদ্যোগে যুক্ত হওয়ার আগে বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থই হবে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। উদ্যোগটি দেশের অর্থনীতিতে বাস্তব সুফল আনলে তবেই ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয়ের পেছনে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিএনপির ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ ছিল জনগণের আস্থা অর্জন—মানুষকে বিশ্বাসে আনা। সেই জায়গাতেই দল সফল হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির শীর্ষ নেতারাও উপস্থিত ছিলেন এবং নতুন সরকারের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার বার্তা দেন।




