শরণখোলায় আগুনে পুড়ে গেল শিক্ষকের বাড়ি, মুহূর্তেই ছাই সবকিছু
রান্নাঘর থেকে আগুনের সূত্রপাতের ধারণা; ফায়ার সার্ভিস পৌঁছানোর আগেই সম্পূর্ণ ঘর ধ্বংস, ক্ষতি প্রায় ৭ লাখ টাকা


এবিএনএ,শরণখোলা (বাগেরহাট) : বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এক শিক্ষকের বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এ ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র, স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকাসহ প্রায় ৭ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার।
রবিবার (৮ মার্চ) সকাল প্রায় ১১টার দিকে উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের উত্তর তাফালবাড়ি গ্রামে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুন লাগার কিছুক্ষণের মধ্যেই পুরো ঘরটি দাউদাউ করে জ্বলতে থাকে এবং ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই ঘরটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই গ্রামের বাসিন্দা নূর মোহাম্মদের ছেলে এবং এসবি তাফালবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. আবু সালেহের বাড়িতে আগুনের সূত্রপাত হয়। ঘটনার সময় তার স্ত্রী শিশুদের জন্য রান্না করতে চুলা জ্বালিয়েছিলেন। পরে তিনি অন্য কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়লে রান্নাঘর থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পরবর্তীতে আগুন দ্রুত পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। ঘরের ভেতরে থাকা গ্যাস সিলিন্ডার ও ফ্রিজ বিস্ফোরণের মতো শব্দে ফেটে যাওয়ায় আগুনের তীব্রতা আরও বেড়ে যায়। এতে অল্প সময়ের মধ্যেই ঘরের ভেতরে থাকা আসবাবপত্র ও অন্যান্য মালামাল পুড়ে যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষক আবু সালেহ জানান, আগুনে তার শিক্ষাগত সনদপত্র, চাকরির নিয়োগপত্র, যোগদানপত্র, জমির দলিল, নগদ প্রায় ৭৫ হাজার টাকা, তার স্ত্রী ও মায়ের স্বর্ণালংকারসহ অনেক প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পুড়ে গেছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৭ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
শরণখোলা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা আফতাব ই আলম বলেন, খবর পেয়ে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন। তবে এলাকার রাস্তা সরু হওয়া এবং আশপাশের খালে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে কিছুটা সমস্যা হয়।
এদিকে সাউথখালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শহিদুল আলম লিটন জানান, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন আগুন পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বালতি দিয়ে পানি এনে আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও তা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। পরে ফায়ার সার্ভিস এলেও পানির সংকটের কারণে পরিস্থিতি সামাল দিতে বেগ পেতে হয়।
শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহিদ হাসান বলেন, ঘটনাটি তিনি জেনেছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।




