

এবিএনএ: বিটিআরসির ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) বিষয়ে প্রকাশ্যে মতামত দেওয়ার পর এক সাংবাদিক ও মোবাইল ফোন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতাকে গভীর রাতে বাসা থেকে তুলে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
টিআইবির মতে, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়াই এভাবে নাগরিককে তুলে নেওয়া আইনের শাসন, মানবাধিকার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পরিপন্থি। সংস্থাটি এটিকে ‘অস্বচ্ছ ও জবাবদিহিহীন অভিযান’ হিসেবে উল্লেখ করে জানায়, এটি অন্তর্বর্তী সরকারের মানবাধিকারভিত্তিক রাষ্ট্রগঠনের অঙ্গীকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং সমালোচনা দমনের ভয়াবহ ইঙ্গিত বহন করে।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য উদ্ধৃত করে টিআইবি জানায়, এনইআইআর নীতিমালা নিয়ে প্রকাশ্যে মতামত জানানোর ফলেই সাংবাদিক ও সংগঠনের নেতাকে মধ্যরাতে বাসা থেকে তুলে নিয়ে দীর্ঘ সময় ডিবি হেফাজতে রাখা হয়। কখনো বলা হয় “তথ্য যাচাইয়ের জন্য”, আবার কখনো সংবাদ সম্মেলনের আমন্ত্রণপত্রে ব্যবহৃত পদবির কারণ দেখানো হয়—যা টিআইবির মতে পরস্পরবিরোধী ও অসংগত ব্যাখ্যা।
এ প্রসঙ্গে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “মতভিন্নতা দমনে গভীর রাতে কাউকে কারণ না জানিয়ে তুলে নেওয়া কর্তৃত্ববাদী ও নিপীড়নমূলক প্রথার উদাহরণ। অভিযোগ থাকলে আইন অনুযায়ী সমন পাঠানো এবং আইনজীবীর উপস্থিতি নিশ্চিত করার নিয়ম স্পষ্টভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “শুধু ব্যক্তিবদল নয়, গোয়েন্দা সংস্থাসহ নজরদারি কাঠামোর মৌলিক সংস্কার জরুরি। রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার নামে এমন নজরদারি সংস্কৃতি চলতে থাকলে ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার অঙ্গীকার বাস্তবায়ন কঠিন হবে।”
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “সমালোচকদের শত্রু হিসেবে দেখার মানসিকতা আত্মঘাতী। সংবাদ সম্মেলন করা বা সরকারী নীতির সমালোচনা করা কোনো অপরাধ নয়; বরং সংবিধানের ৩৭, ৩৮ ও ৩৯ অনুচ্ছেদে মতপ্রকাশের অধিকার স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে।”
টিআইবি অভিযোগ করে বলেছে, এনইআইআর সম্পর্কিত মতামত দেওয়ার কারণে সাংবাদিক ও ব্যবসায়ীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর কাপুরুষোচিত আঘাত। এটি শুধু দেশের সংবিধান নয়, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডেরও সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।




