বাংলাদেশ

জামিন মিললেও মুক্তি অনিশ্চিত! যশোর কারাগারে কেন আটকে আছে সাদ্দামের মুক্তি

হাইকোর্টের মানবিক জামিন আদেশের পরও কারাগারে না পৌঁছানোয় মুক্তি পাচ্ছেন না জুয়েল হাসান সাদ্দাম

এবিএনএ: হাইকোর্টের আদেশে ছয় মাসের জামিন পেলেও এখনই মুক্তি পাচ্ছেন না যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের (নিষিদ্ধ সংগঠন) সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দাম। কারণ, তার জামিননামা এখনো কারাগারের জেলগেটে পৌঁছায়নি।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আবিদ আহমেদ। তিনি জানান, আদালতের জামিন আদেশ থাকলেও আনুষ্ঠানিক জামিননামা হাতে না পাওয়ায় সাদ্দামকে আপাতত মুক্তি দেওয়া সম্ভব নয়। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পৌঁছানোর পরই তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হবে।

মানবিক দিক বিবেচনায় সাদ্দামকে এই জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমেদ ভূঞার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ সোমবার এই আদেশ দেন। আদালতে তার পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী সাঈদ আহমেদ রাজা।

আইনজীবী জানান, বাগেরহাটের সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় সাদ্দাম জামিন পেয়েছেন। অন্য মামলাগুলোতে তিনি আগেই জামিনে ছিলেন। ফলে আইনি দিক থেকে তার মুক্তিতে আর কোনো বাধা থাকার কথা নয়।

উল্লেখ্য, একাধিক মামলায় কারাবন্দি সাদ্দাম সম্প্রতি ব্যক্তিগত জীবনে চরম ট্র্যাজেডির মুখোমুখি হন। গত ২৪ জানুয়ারি যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের গেটে মাত্র পাঁচ মিনিটের জন্য তাকে মৃত স্ত্রী ও ৯ মাস বয়সী শিশুপুত্রকে শেষবারের মতো দেখার সুযোগ দেওয়া হয়। প্যারোল মঞ্জুর না হওয়ায় অ্যাম্বুলেন্সে করেই মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় কারাগারের সামনে।

এর আগে, বাগেরহাট সদর উপজেলার বেখেডাঙ্গা গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে তার স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালী এবং শিশু সন্তান নাজিমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় প্যারোল না দেওয়াকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় ওঠে।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কিছুদিন আত্মগোপনে ছিলেন সাদ্দাম। পরে গোপালগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার হয়ে তিনি যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button