ট্রাম্পের আপত্তি উপেক্ষা করে ভারতকে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি পাঠানোর ঘোষণা পুতিনের
নয়াদিল্লিতে মোদি–পুতিন বৈঠকের পর রাশিয়ার প্রতিশ্রুতি—বন্ধুত্ব ও জ্বালানি সহযোগিতায় টানাপোড়েন তৈরি হবে না।


এবিএনএ: যুক্তরাষ্ট্রের চাপ ও আপত্তি সত্ত্বেও ভারতকে ধারাবাহিকভাবে জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে রাশিয়া। নয়াদিল্লিতে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক শেষে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জানান, মস্কো-নয়াদিল্লির জ্বালানি অংশীদারিত্ব কোনো বাহ্যিক চাপেই থেমে যাবে না।
শুক্রবার হায়দরাবাদ হাউসে অনুষ্ঠিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে পুতিন বলেন, আলোচনা অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। তিনি ভারতীয় রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, দুই দেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ভবিষ্যতেও একইভাবে এগিয়ে যাবে।
পুতিন জানান, রাশিয়া তামিলনাড়ুতে ভারতের জন্য যে বৃহৎ নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট তৈরি করছে, তার ছয় ইউনিটের মধ্যে দুটি ইতোমধ্যেই বিদ্যুৎ গ্রিডে যুক্ত হয়েছে। বাকি চারটি নির্মাণাধীন এবং চালু হলে ভারতের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় ভূমিকা রাখবে।
রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, সফরে বাণিজ্য ও সহযোগিতার যেসব বিষয় উঠে এসেছে, তাতে তার দেশ সন্তুষ্ট। ভারতের প্রধানমন্ত্রীও বলেন, নানা বৈশ্বিক সংকটের মধ্যেও ভারত–রাশিয়ার বন্ধুত্ব অটুট এবং স্থিতিশীল।
যৌথ বিবৃতিতে বড় কোনো প্রতিরক্ষা বা যুদ্ধবিমান সংক্রান্ত চুক্তি ঘোষণা করা হয়নি। বরং জাহাজ নির্মাণ, আর্কটিক অঞ্চলে কাজের জন্য ভারতীয় নাবিকদের প্রশিক্ষণ, নৌ-পরিবহন বিনিয়োগ এবং সিভিল নিউক্লিয়ার সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
দুই দেশের বর্তমান বাণিজ্য মূলত ছাড়মূল্যে রুশ অপরিশোধিত তেল আমদানির ওপর নির্ভরশীল। পুতিন আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে ৬০ বিলিয়ন ডলারের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ভবিষ্যতে ১০০ বিলিয়নে পৌঁছানো সম্ভব। যদিও কিছু ভারতীয় কোম্পানি ইতোমধ্যে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে তেল আমদানি কমাতে শুরু করেছে, রাশিয়া জানিয়েছে—ভারতের জ্বালানি প্রয়োজন পূরণে তাদের সরবরাহ থামবে না।




