রেমিট্যান্সে আর অপেক্ষা নয়: পাঠানোর দিনই টাকা জমার নির্দেশ বাংলাদেশ ব্যাংকের
আন্তঃসীমান্ত লেনদেন দ্রুত করতে নতুন নীতিমালা, মার্চের মধ্যে পুরোপুরি বাস্তবায়নের সময় পেল ব্যাংকগুলো


এবিএনএ: বিদেশে কর্মরত প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স দ্রুত গ্রাহকের হাতে পৌঁছাতে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিদেশ থেকে পাঠানো অর্থ একই কর্মদিবসে অথবা সর্বোচ্চ পরবর্তী কর্মদিবসের মধ্যে গ্রাহকের হিসাবে জমা নিশ্চিত করতে হবে।
আন্তঃসীমান্ত অর্থ পরিশোধ ব্যবস্থায় দীর্ঘসূত্রতা কমানো ও কার্যকারিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে এই নীতিমালা জারি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত সার্কুলারে জানানো হয়, নির্দেশনাটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হলেও পূর্ণ বাস্তবায়নের জন্য ব্যাংকগুলোকে আগামী মার্চ পর্যন্ত সময় দেওয়া হবে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলো রেমিট্যান্সের বার্তা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নিরাপদ ডিজিটাল মাধ্যমে গ্রাহককে অবহিত করবে। ব্যাংকিং সময়ের মধ্যে অর্থ এলে সেদিনই এবং ব্যাংকিং সময়ের পর এলে পরবর্তী কর্মদিবসে টাকা হিসাবে জমা দিতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকগুলোকে স্ট্রেইট-থ্রু প্রসেসিং (এসটিপি) ও ঝুঁকিভিত্তিক দ্রুত প্রক্রিয়াকরণ পদ্ধতি ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে। প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া গেলে কিছু আনুষ্ঠানিক যাচাই বাকি থাকলেও গ্রাহকের হিসাবে অর্থ জমা রাখা যাবে, যা পরবর্তীতে সম্পন্ন করা হবে। তবে যেসব ক্ষেত্রে পোস্ট-ক্রেডিট যাচাই সম্ভব নয়, সেখানে সর্বোচ্চ তিন কর্মদিবসের মধ্যে লেনদেন নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রেমিট্যান্স নিষ্পত্তি আরও গতিশীল করতে দিনের শেষে ‘নস্ট্রো’ হিসাবের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ইন্ট্রাডে ক্রেডিট কনফারমেশন চালুর কথাও বলা হয়েছে। পাশাপাশি রিকনসিলিয়েশন প্রক্রিয়া ৬০ মিনিটের মধ্যে শেষ করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ইনওয়ার্ড রেমিট্যান্স গ্রহণ থেকে গ্রাহকের হিসাবে জমা পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া ট্র্যাক করার জন্য ইউনিক এন্ড-টু-এন্ড ট্রানজ্যাকশন রেফারেন্স (ইউটিআর) ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ডিজিটাল বৈদেশিক মুদ্রা প্ল্যাটফর্ম উন্নত করে ফরম সি ও ফরম সি (আইসিটি) সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা তুলে নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
ব্যবসায়ী ও ব্যাংকিং খাত সংশ্লিষ্টরা এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাঁদের মতে, এতে গ্রাহকের আস্থা বাড়বে এবং বাংলাদেশের রেমিট্যান্স ব্যবস্থাপনা আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে, যদিও শুরুতে কিছু কার্যক্রমগত চ্যালেঞ্জ থাকতে পারে।




