উৎসবমুখর ভোট নিশ্চিত করাই বড় পরীক্ষা, নির্বাচন নিয়ে আশাবাদী প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস
শান্ত পরিবেশে প্রচারণা শেষ পর্যায়ে, নিখুঁত ভোট আয়োজনই এখন সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ


এবিএনএ: আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, প্রচারণা পর্যায়ে কোথাও কটু বক্তব্য বা অশোভন আচরণ চোখে পড়েনি, যা দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত।
শনিবার রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় নির্বাচন প্রস্তুতি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে এসব কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টা। বৈঠক শেষে প্রেস সচিব শফিকুল আলম সাংবাদিকদের তার বক্তব্যের বিস্তারিত তুলে ধরেন।
ড. ইউনূস বলেন, নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি এখন পর্যন্ত সন্তোষজনকভাবে এগিয়েছে। তবে সরকারের সামনে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হলো ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়াকে শতভাগ নিখুঁত করা। ভোট যেন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হয়—এটাই মূল লক্ষ্য।
তিনি জানান, সামনে আসা সপ্তাহটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার প্রত্যাশা, ভোটের দিনটি হবে উৎসবের মতো। নারী ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটকেন্দ্রে যাবেন, পরিবারসহ মানুষ অংশ নেবে ভোটের আনন্দে। এই নির্বাচন ভবিষ্যতে একটি স্মরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
নির্বাচনের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, সারা দেশের প্রায় ৪৩ হাজার ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২৫ হাজার ৭০০ কেন্দ্রে পুলিশ সদস্যদের জন্য বডি ওয়ার্ন ক্যামেরা সরবরাহ করা হয়েছে। বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা সরাসরি কয়েকটি কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করে ক্যামেরার কার্যকারিতা যাচাই করেন।
এছাড়া নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ এখন পুরোপুরি সক্রিয় রয়েছে বলে জানান তিনি। এই অ্যাপের মাধ্যমে কোনো কেন্দ্র বা কেন্দ্রের আশপাশে বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, রিটার্নিং অফিসার এবং নির্বাচন কমিশনের কাছে সংকেত পৌঁছে যাবে। এর ফলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।
প্রেস সচিব আরও বলেন, অতীতে দুর্গাপূজার সময় একই ধরনের অ্যাপ ব্যবহার করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছিল, যা কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই এবার নির্বাচনে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করা হচ্ছে।




