চার ঘণ্টার রণক্ষেত্র সীমান্ত: পাকিস্তান-আফগানিস্তান উত্তেজনায় ভাঙছে যুদ্ধবিরতির আশা
ভারী অস্ত্রের গোলাবর্ষণে সীমান্তজুড়ে আতঙ্ক—দুই মাসের মধ্যেই ভেঙে পড়তে পারে কাতার-তুরস্কের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি


এবিএনএ: পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্ত শুক্রবার রাতে আবারও তীব্র উত্তেজনায় অস্থির হয়ে ওঠে। প্রায় চার ঘণ্টা ধরে দুই দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে গোলাবিনিময় চলে, যা দুই মাস আগে কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। উভয় পক্ষই গোলাবর্ষণের জন্য একে অন্যকে দায়ী করছে।
বিবিসির তথ্যানুসারে, স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১০টার দিকে সংঘাত শুরু হয়। ভারী কামান, মর্টারসহ বিভিন্ন অস্ত্র ব্যবহারের ফলে সীমান্তবর্তী আফগান অংশে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বহু আফগান নাগরিক গাড়ি ও পায়ে হেঁটে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে পালিয়ে যাচ্ছেন।
কান্দাহারের তথ্য বিভাগের প্রধান আলি মোহাম্মদ হাকমাল অভিযোগ করেন, পাকিস্তানের বাহিনী সীমান্তের আফগান অংশে ভারী কামান নিক্ষেপ করেছে, যা বেসামরিক বসতিতে ক্ষতি করেছে।
অন্যদিকে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি তালেবানের বিরুদ্ধে ‘উস্কানিবিহীন’ হামলার অভিযোগ এনে বলেন, পাকিস্তান তার আঞ্চলিক সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং পাল্টা জবাব দিয়েছে।
তবে তালেবানের একজন মুখপাত্র দাবি করেন, পাকিস্তানই প্রথম আক্রমণ শুরু করেছে, ফলে তারা জবাব দিতে বাধ্য হয়েছে।
এই সংঘর্ষ এমন এক সময়ে হলো, যখন সৌদি আরবে দুই পক্ষের শান্তি আলোচনাও ব্যর্থ হয়েছে। যদিও আলোচনায় যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার বিষয়ে সম্মতি ছিল, সর্বশেষ গোলাগুলি সেই প্রচেষ্টাকে আরও কঠিন করে তুলছে।
এদিকে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আইএসপিআর শনিবার জানায়, খাইবার পাখতুনখোয়ার টাঙ্ক ও লাক্কি মারওয়াত এলাকায় পৃথক অভিযানে টিটিপির নয়জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। তারা নিরাপত্তা বাহিনী ও সাধারণ মানুষের ওপর হামলায় জড়িত ছিল। অভিযানকালে বিভিন্ন অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
সন্ত্রাসবিরোধী এসব অভিযানে সফলতার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি নিরাপত্তা বাহিনীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, দেশ থেকে সন্ত্রাসবাদ নির্মূলের লড়াই অব্যাহত থাকবে।




