জনগণের স্বপ্ন উপেক্ষিত হলে আবারও ঘটতে পারে গণঅভ্যুত্থান: সতর্ক করলেন নাহিদ ইসলাম
কর্মসংস্থান, ন্যায়ভিত্তিক অর্থনীতি ও সুশাসনের অভাবে নতুন আন্দোলনের সম্ভাবনার ইঙ্গিত


এবিএনএ: জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, জনগণের মৌলিক চাহিদা ও আকাঙ্ক্ষা বারবার অবহেলিত হলে ভবিষ্যতে আবারও নতুন গণঅভ্যুত্থান ঘটতে পারে। তিনি জানান, বিগত সময়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় এমন এক পক্ষপাতদুষ্ট ব্যবস্থা তৈরি হয়েছিল, যেখানে ক্ষমতা ছিল লুটেরা ও মাফিয়া শ্রেণির হাতে এবং সাধারণ মানুষ বঞ্চিত ছিল তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে।
শনিবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে অনুষ্ঠিত চতুর্থ বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম এসব কথা বলেন। সম্মেলনের আয়োজক ছিল ‘দৈনিক বণিক বার্তা’।
তিনি বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের বৈষম্যমূলক নীতি মানুষের মধ্যে অসন্তোষ, ক্ষোভ ও পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা তৈরি করেছিল। তরুণদের নেতৃত্বে সেই প্রত্যাশা থেকে জন্ম নেয় জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান, যা ছিল বৈষম্য ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে একটি ন্যায্য আন্দোলন।
বর্তমান চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, দেশের সামনে দুটি বড় সংকট—কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ ও শহরাঞ্চলের মধ্যবিত্ত এবং তরুণ সমাজের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করা। পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মৌলিক সেবায় ন্যায্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, নতুন রাষ্ট্রীয় বিন্যাসে নগর পরিবহন ব্যবস্থা, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, তরুণদের দক্ষতা বিকাশ ও মানসম্মত কর্মসংস্থানের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।
প্রবাসীদের ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রবাসীরা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অংশ নিতে চান, কিন্তু ন্যায়ভিত্তিক অর্থনীতি ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা ছাড়া তা কখনো স্থায়ী হবে না। দুর্নীতি দমন ও সুশাসন নিশ্চিত না হলে বিদেশি বিনিয়োগও আকৃষ্ট হবে না।
তিনি আরও বলেন, সমাজে যদি ফ্যাসিবাদী মনোভাব বজায় থাকে, তাহলে কোনো সংস্কার বা উন্নয়ন স্থায়ী হবে না। পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনতে কার্যক্রম চলছে, এবং দেশকে অর্থনৈতিকভাবে পুনর্গঠনে আমরা সচেষ্ট থাকবো।




