নির্বাচন ঘিরে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের শঙ্কা, ‘শান্তিতে থাকতে দেবে না প্রতিষ্ঠিত শক্তি’—মির্জা আব্বাস
প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ও নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন তুলে ঢাকা-৮ আসনে ভোটারদের উদ্দেশে কঠোর বার্তা বিএনপি প্রার্থীর


এবিএনএ: আগামী জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র এবং প্রশাসনের একাংশের পক্ষপাতমূলক ভূমিকা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন ঢাকা-৮ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মির্জা আব্বাস। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, বর্তমানে বা ভবিষ্যতে যে সরকারই দায়িত্ব নিক না কেন, বিশ্বের কিছু প্রতিষ্ঠিত শক্তি দেশের মানুষকে শান্তিতে থাকতে দেবে না।
শনিবার রাজধানীর কাকরাইল এলাকায় হক ক্যাসেল ফ্ল্যাট মালিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা শেষে গণসংযোগকালে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে নিজের উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন সাবেক এই মন্ত্রী।
মির্জা আব্বাস অভিযোগ করেন, প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ে কারও কারও মধ্যে বিশেষ কিছু প্রার্থীর প্রতি দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে উঠছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, একটি প্রভাবশালী মহল আগেই নির্দিষ্ট কিছু প্রার্থীর নাম তালিকাভুক্ত করে রেখেছে, যাদের যেকোনো মূল্যে সংসদে পাঠানো হবে—ভোট পড়ুক বা না পড়ুক। তিনি বলেন, এমন বাস্তবতা গণতন্ত্র ও দেশের ভবিষ্যতের জন্য মারাত্মক হুমকি।
গণআন্দোলনের ইতিহাস টেনে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জেল-জুলুম সহ্য করে বিএনপিই আন্দোলনের পথ তৈরি করেছে। অথচ এখন কেউ কেউ এমন ভঙ্গিতে কথা বলছেন, যেন তারাই এককভাবে পরিবর্তনের নায়ক। তিনি মন্তব্য করেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় কেউ ক্ষমতার দাবি করেনি, অথচ আজ অনেকেই ক্ষমতাকে ব্যক্তিগত সম্পত্তি ভাবছে।
নির্বাচনী রাজনীতির বর্তমান বাস্তবতা তুলে ধরে মির্জা আব্বাস দাবি করেন, জামায়াতে ইসলামী ও তাদের মিত্র শক্তি পরোক্ষভাবে ক্ষমতার কেন্দ্রে অবস্থান করছে এবং নির্বাচনকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে চাইছে। তার মতে, আওয়ামী লীগের পর বিএনপিকেও রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেওয়ার একটি অপচেষ্টা দৃশ্যমান।
নিজের এলাকা ঢাকা-৮ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গত দেড় দশকের বেশি সময় ধরে এলাকাবাসী জনপ্রতিনিধির কার্যকর উপস্থিতি পায়নি। তবে তিনি সব সময় মানুষের পাশে ছিলেন বলে দাবি করেন। অতীতের অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, দায়িত্বে থাকাকালে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বজায় রাখাই ছিল তার নীতি।
রমনা পার্ক উন্নয়নসহ এলাকার নানা জনস্বার্থমূলক কাজে নিজের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে মির্জা আব্বাস আশ্বাস দেন, ভবিষ্যতেও যেকোনো প্রয়োজনে এলাকার মানুষ তাকে এক ফোনেই পাশে পাবেন।




