হতাশা থেকে বিশ্বজয়—জীবনের কঠিন সময় পেরিয়ে যে বার্তা দিলেন মেসি: ‘কখনও হাল ছাড়তে নেই’
আত্মহত্যার চিন্তা থেকে বিশ্বকাপ জয়—ব্যক্তিজীবন, পরিবার, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও সংগ্রামের গল্পে খোলামেলা লিওনেল মেসি


এবিএনএ: ফুটবল দুনিয়ায় তিনি ইতিহাস, রেকর্ড আর সাফল্যের নাম—তবে ঘরের ভেতরে লিওনেল মেসি আর দশজন সাধারণ বাবা ও স্বামীর মতোই। সম্প্রতি আর্জেন্টিনার জনপ্রিয় স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম লুজু টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জীবনের নানা অজানা অধ্যায় তুলে ধরেছেন বিশ্বকাপজয়ী এই অধিনায়ক।
সাক্ষাৎকারে মেসি অকপটে স্বীকার করেছেন, জীবনের এক সময় এমন হতাশা তাঁকে গ্রাস করেছিল, যখন বেঁচে থাকার অর্থই হারিয়ে ফেলেছিলেন তিনি। সেই অন্ধকার সময় থেকে বেরিয়ে আসার মূলমন্ত্র হিসেবেই তিনি বললেন—কখনও হাল ছেড়ে দেওয়া যায় না। চেষ্টা চালিয়ে যেতে হয়, বারবার পড়ে গিয়েও উঠে দাঁড়ানোর মানসিকতা রাখতে হয়।
প্রায় এক দশক আগে বার্সেলোনার হয়ে ক্লাব ফুটবলে শীর্ষে থাকলেও জাতীয় দলের ব্যর্থতা তাঁকে ভেঙে দিয়েছিল। ২০১৬ সালের কোপা আমেরিকার ফাইনালে হারার পর আর্জেন্টিনা দল থেকে অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্তও নিয়েছিলেন তিনি। সেই সময়ের হতাশা ছিল ভয়ংকর, তবে সমালোচনার তোয়াক্কা না করে দলে ফেরার সিদ্ধান্তটাই বদলে দেয় তাঁর জীবন।
এরপরই আসে সাফল্যের জোয়ার—দুটি কোপা আমেরিকা ও বহুল কাঙ্ক্ষিত বিশ্বকাপ জয়। জাতীয় দলের জার্সিতে খেলাটাই এখনও তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় গর্ব।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে খেলার সুবাদে পরিবারকে আগের চেয়ে বেশি সময় দিতে পারছেন মেসি। তিন সন্তানের কোলাহলে ভরা সংসারে তিনি নিজেকে দেখেন একেবারে সাধারণ মানুষ হিসেবে। ব্যস্ত দিনের ফাঁকে একাকিত্ব উপভোগ করাটাও তাঁর কাছে এখন স্বস্তির।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে মেসি জানান, কোচ হওয়ার কথা ভাবেন না তিনি। বরং নিজের একটি ক্লাব গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেন—যেখানে শিশুরা সুযোগ পাবে ফুটবলার হিসেবে গড়ে ওঠার। ইতোমধ্যে বন্ধু লুইস সুয়ারেজের একটি ক্লাবের মালিকানার সঙ্গে যুক্ত হয়ে সেই পথচলা শুরু করেছেন তিনি।
প্রযুক্তি নিয়েও মেসির রয়েছে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তাঁর পছন্দ নয়, যদিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মজা করে সময় কাটাতে ভালোবাসেন। পুরো সাক্ষাৎকার জুড়ে তিনি নিজেকে তুলে ধরেছেন একজন সাধারণ আর্জেন্টাইন মানুষ হিসেবেই—যার জীবনের মূল শিক্ষা একটাই, কখনও হাল ছাড়তে নেই।




