খুলনায় ফের রক্তাক্ত সন্ধ্যা: প্রকাশ্যে কুপিয়ে-গুলি করে হত্যা চরমপন্থি নেতাকে
সঙ্গীতা সিনেমা হলের সামনে হামলা, খুলনা জুড়ে আতঙ্ক—এ মাসেই নিহত ৩, বাড়ছে সহিংসতা ও অপরাধ প্রবণতা


এবিএনএ: খুলনা শহর আবারও কেঁপে উঠল রক্তাক্ত সন্ত্রাসে। মঙ্গলবার রাতে নগরীর ব্যস্ত সড়কের পাশে সঙ্গীতা সিনেমা হলের সামনে প্রকাশ্যে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয়েছে এক সময়ের ভয়ংকর চরমপন্থি নেতা শেখ শাহাদাত হোসেনকে।
পুলিশ জানায়, শেখ শাহাদাত নিষিদ্ধ ঘোষিত পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির খুলনা অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নেতা ছিলেন। প্রায় দেড় যুগ কারাভোগ শেষে চলতি বছর জামিনে মুক্ত হন তিনি। মুক্তির পর থেকে কিছুটা নিরব জীবনযাপন করছিলেন, তবে তার অতীত ঠিকই ফিরে এলো নির্মম পরিণতি হিসেবে।
সোনাডাঙ্গা মডেল থানার ওসি শফিকুল ইসলাম জানান, রাত ৮টার দিকে একদল অজ্ঞাতনামা হামলাকারী শাহাদাতকে ধাওয়া করে টেনে নিয়ে যায় সঙ্গীতা সিনেমা হলের নিচে থাকা একটি টায়ারের দোকানের সামনে। সেখানেই তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও গুলি করে গুরুতর আহত করে তারা। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে রাত সাড়ে ৯টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শাহাদাতের বিরুদ্ধে দুই পুলিশ হত্যা ও একাধিক অপরাধের মামলা ছিল। কিছু মামলায় তিনি খালাস পেলেও কয়েকটিতে জামিনে ছিলেন।
খুলনায় সহিংসতার মাত্রা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। গত এক বছরে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর থেকে খুলনা শহরে প্রতি মাসেই ঘটছে একাধিক হত্যাকাণ্ড। এ বছরের আগস্টের প্রথম পাঁচ দিনেই তিনটি হত্যাকাণ্ডের খবর মিলেছে।
এর আগে ৩ আগস্ট রাতে মহেশ্বরপাশার উত্তর বণিকপাড়ায় ঘের ব্যবসায়ী আলামিন হাওলাদারকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয়। একের পর এক খুন ও সন্ত্রাসী হামলায় এখন চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন খুলনার সাধারণ মানুষ। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে সর্বত্র।
নগরবাসী বলছেন, প্রতিটি হত্যাকাণ্ড যেন প্রশাসনের জন্য সতর্কবার্তা। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে এ ধারা অব্যাহত থাকবেই। এখন প্রশ্ন—খুলনায় শান্তি ফিরবে কবে?




