রাজনীতি

এভারকেয়ার হাসপাতালে সিসিইউতে খালেদা জিয়া, সারাদেশে দোয়া-মোনাজাতের প্রস্তুতি

জটিল শারীরিক অবস্থায় নিবিড় পর্যবেক্ষণে সাবেক প্রধানমন্ত্রী, শুক্রবার জুমার পর দোয়া ও মোনাজাতের আহ্বান বিএনপির

এবিএনএ: বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বর্তমানে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁর সার্বিক শারীরিক অবস্থা নজরদারিতে রেখেছেন দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড। বৃহস্পতিবার দুপুরে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ব্যাক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শ অনুযায়ী খালেদা জিয়াকে নিবিড় পরিচর্যায় রাখা হয়েছে। বিভিন্ন স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও রিপোর্ট মূল্যায়নের ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এদিকে বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতার জন্য আগামীকাল শুক্রবার জুমার নামাজের পর সারাদেশের সব মসজিদে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হবে। রাজধানীর নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে দলীয় নেতারা এতে অংশ নেবেন। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং সিনিয়র নেতারাও এতে উপস্থিত থাকবেন।

গত রোববার সন্ধ্যায় স্বাস্থ্যপরীক্ষার জন্য এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন খালেদা জিয়া। পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলে তাঁকে মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়। উল্লেখ্য, গত ১৫ অক্টোবরও স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য তিনি একই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন এবং একদিন পর বাসায় ফিরে যান।

এর আগে চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যের লন্ডনে চার মাস ছিলেন তিনি। সেখানে ‘লন্ডন ক্লিনিকে’ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তাঁর চিকিৎসা হয়। দেশে ফেরার পরও এভারকেয়ার হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে চলমান রয়েছে তাঁর চিকিৎসা।

প্রায় ৮০ বছর বয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘদিন ধরেই লিভার সিরোসিস, হার্ট ও কিডনি সমস্যা, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিসসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাঁকে নিবিড় পরিচর্যা ও সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা ব্যবস্থায় রাখা হচ্ছে।

দেশজুড়ে খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় দোয়া-মোনাজাতের প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে। নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষেরও উদ্বেগ বাড়ছে বিএনপি নেত্রীর স্বাস্থ্যের উন্নতি নিয়ে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button