স্বামীর কবরের পাশে চিরবিদায় ‘আপসহীন নেত্রী’ খালেদা জিয়া, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত
জিয়া উদ্যানে শেষ ঠিকানা, লাখো মানুষের অশ্রু ও শ্রদ্ধায় সম্পন্ন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর দাফন


এবিএনএ: রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে তাঁর স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে সমাহিত করা হয়েছে। বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জাতীয় সংসদ ভবন সংলগ্ন জিয়া উদ্যানে সম্পন্ন হয় তাঁর দাফন।
এর আগে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজা ও মানিক মিয়া এভিনিউয়ে অনুষ্ঠিত হয় খালেদা জিয়ার জানাজা। সেখানে বিএনপি নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের লাখো মানুষ অংশ নিয়ে প্রিয় নেত্রীকে শেষ শ্রদ্ধা জানান। শোক ও আবেগে পুরো এলাকা ভারী হয়ে ওঠে।
দীর্ঘদিন গুরুতর অসুস্থতায় ভোগার পর মঙ্গলবার সকাল ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন খালেদা জিয়া। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। আর্থরাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, লিভার, ফুসফুস ও হৃদ্যন্ত্রের জটিলতাসহ নানা শারীরিক সমস্যায় তিনি দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন ছিলেন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে লন্ডনে চিকিৎসা নিয়ে দেশে ফেরার পর অবস্থার অবনতি হলে গত ২৩ নভেম্বর তাঁকে আবার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
গৃহবধূ থেকে রাজনীতির শীর্ষে উঠে আসা খালেদা জিয়া প্রায় চার দশক ধরে বিএনপির নেতৃত্ব দিয়েছেন। ১৯৮২ সালে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ১৯৮৪ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দলের চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন তিনি। জীবদ্দশায় তিনবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়ে বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইতিহাস গড়েন।

১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর সংকটময় সময়ে দলের হাল ধরেন খালেদা জিয়া। এরশাদবিরোধী আন্দোলনে আপসহীন ভূমিকার জন্য তিনি ‘আপসহীন নেত্রী’ উপাধিতে ভূষিত হন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে ব্যক্তিগত আক্রমণ এড়িয়ে শালীন রাজনৈতিক ভাষার জন্যও তিনি পরিচিত ছিলেন।
অবশেষে সেই নেত্রী চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন তাঁর সহযোদ্ধা ও জীবনসঙ্গীর পাশে—বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে রেখে গেলেন এক গভীর ও স্মরণীয় অধ্যায়।




