শক্ত প্রতিরক্ষা থেকে বৈশ্বিক মর্যাদা পুনরুদ্ধার—জামায়াতের ইশতেহারে কী আছে বাংলাদেশের জন্য?
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষানীতিতে আমূল পরিবর্তনের রূপরেখা তুলে ধরল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী


এবিএনএ: পরিবর্তিত বিশ্বব্যবস্থায় বাংলাদেশের নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক অবস্থান পুনর্গঠনের লক্ষ্য নিয়ে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঘোষিত এই ইশতেহারে কেবল রাজনৈতিক অঙ্গীকার নয়, বরং পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা নীতিতে দীর্ঘমেয়াদি একটি কৌশলগত রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ইশতেহার প্রকাশ করা হয়। দলটির ভাষ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক বাস্তবতা ও আঞ্চলিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নতুন ধরনের কূটনৈতিক ও সামরিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজন, যা এই ইশতেহারে প্রতিফলিত হয়েছে।
পররাষ্ট্রনীতি: সমমর্যাদা ও কৌশলগত বন্ধুত্ব
ইশতেহারে পারস্পরিক সম্মান ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক জোরদারের কথা বলা হয়েছে। বাংলাদেশ ও বাংলাদেশি পাসপোর্টের মর্যাদা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে শান্তিপূর্ণ ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়ার অঙ্গীকার করা হয়েছে। মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ককে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান ও কানাডাসহ উন্নত বিশ্বের সঙ্গে গঠনমূলক কূটনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরা হয়।
এ ছাড়া পূর্ব ইউরোপ, আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোর সঙ্গে নতুন কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানো, জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোতে বাংলাদেশের সক্রিয় ভূমিকা জোরদার এবং রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
প্রতিরক্ষানীতি: ভিশন ২০৪০ ও সামরিক আত্মনির্ভরতা
প্রতিরক্ষা খাতে জামায়াতের ইশতেহারের মূল লক্ষ্য ২০৪০ সালের মধ্যে শতভাগ সামরিক আত্মনির্ভরশীলতা অর্জন। এজন্য একটি যুগোপযোগী জাতীয় প্রতিরক্ষা নীতি প্রণয়ন, নতুন সামরিক ডকট্রিন তৈরি এবং প্রতিরক্ষা গবেষণার জন্য জাতীয় সামরিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান গঠনের কথা বলা হয়েছে।
সামরিক বাজেট ধাপে ধাপে বৃদ্ধি, নিজস্ব অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি উৎপাদন সক্ষমতা অর্জন, গোয়েন্দা সংস্থার আধুনিকীকরণ এবং সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তরুণদের জন্য স্বেচ্ছাসেবী সামরিক প্রশিক্ষণ চালু ও সেনাসদস্য সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনাও ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়েছে।




