নির্বাচনী হাওয়া

রিকশাচালকও প্রধানমন্ত্রী হতে পারবে—পরিবারতন্ত্র ভাঙার ডাক জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের

ফেনীর জনসভা থেকে ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকার, কর্মসংস্থান ও উন্নয়ন প্রতিশ্রুতি

এবিএনএ: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, পরিবারতন্ত্র ও বংশানুক্রমিক রাজনীতির অবসান ঘটিয়ে ন্যায় ও ইনসাফের বাংলাদেশ গড়াই জামায়াতের লক্ষ্য। এমন রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চান তারা, যেখানে যোগ্যতা ও সততার ভিত্তিতে একজন রিকশাচালকও দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ পাবে।

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) ফেনীতে অনুষ্ঠিত জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, যুব সমাজের প্রত্যাশা পূরণে জামায়াত কাজ করবে এবং যারা বাংলাদেশকে সত্যিকার অর্থে ভালোবাসে, তাদের প্রথম সিদ্ধান্ত হবে দেশের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ বলা, দ্বিতীয় সিদ্ধান্ত হবে ইনসাফ প্রতিষ্ঠার পক্ষে অবস্থান নেওয়া।

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, পুরোনো ও দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনৈতিক সংস্কৃতি জনগণ আর গ্রহণ করবে না। দেশের বিভিন্ন স্থানে জামায়াতের নারী কর্মীদের হেনস্তার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, নারীদের সম্মানহানির রাজনীতি জামায়াত কখনো মেনে নেবে না।

বিএনপির প্রস্তাবিত বেকার ভাতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জামায়াত ভাতা নির্ভর নয়, বরং কর্মসংস্থানমুখী অর্থনীতি গড়ে তুলতে চায়। তার ভাষায়, “আমরা বসে বসে ভাতা নেব না, আমরা কাজ সৃষ্টি করব। ঐক্যবদ্ধভাবে সামনে এগিয়ে যেতে চাই।”

ফেনীবাসীর উদ্দেশে দেওয়া প্রতিশ্রুতিতে জামায়াত আমির জানান, ফেনীতে একটি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি দীর্ঘদিনের বন্যা সমস্যা নিরসনে কার্যকর বাঁধ নির্মাণ এবং আন্তর্জাতিক মানের একটি স্টেডিয়াম গড়ে তোলার চেষ্টাও করবে জামায়াত।

জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের ফেনী-২ আসনের প্রার্থী মুজিবুর রহমান মঞ্জু। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে জনগণ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে এবং বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে।

ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম তার বক্তব্যে বলেন, পুরোনো বন্দোবস্তের রাজনীতি বজায় থাকলে মানুষ চাঁদাবাজ ও টেন্ডারবাজদের প্রত্যাখ্যান করবে।

শুক্রবার সকাল থেকেই ফেনী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ঢল নামে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সকাল ১০টায় আমিরে জামায়াত সমাবেশস্থলে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য দেন। জনসভায় জামায়াত ও জোটভুক্ত দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button