মার্কিন শান্তি প্রস্তাব ‘অন্যায্য’—যুদ্ধবিরতিতে শর্ত জুড়ে কড়া অবস্থানে ইরান
১৫ দফা প্রস্তাবে অসন্তোষ, আত্মরক্ষা সক্ষমতা ছাড়ার শর্তে আপত্তি; পাল্টা নিশ্চয়তা ও ক্ষতিপূরণ দাবি তেহরানের


এবিএনএ: চলমান সংঘাত থামাতে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া শান্তি প্রস্তাবকে ‘একতরফা’ ও ‘অন্যায্য’ বলে সরাসরি প্রত্যাখ্যানের ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান। পাকিস্তানের মাধ্যমে পাঠানো এই প্রস্তাবের বিষয়ে প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় তেহরান জানিয়েছে, এতে তাদের নিরাপত্তা ও সার্বভৌম স্বার্থ উপেক্ষা করা হয়েছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, প্রস্তাবটি দেশটির উচ্চপর্যায়ের নেতৃত্ব গভীরভাবে পর্যালোচনা করেছে। তার মতে, এতে ইরানকে আত্মরক্ষার সক্ষমতা কমিয়ে আনার কথা বলা হয়েছে, অথচ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টি অস্পষ্ট রাখা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এই প্রস্তাব কার্যকর করার মতো প্রয়োজনীয় শর্তগুলোও এতে অন্তর্ভুক্ত নেই। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে আলোচনায় বসার বাস্তবসম্মত সুযোগ খুবই সীমিত বলে মনে করছে তেহরান।
তবে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা পুরোপুরি থেমে নেই। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মতপার্থক্য কমাতে তুরস্ক ও পাকিস্তান মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।
এদিকে চার সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা সংঘাত নিরসনে যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ দফা প্রস্তাবের আনুষ্ঠানিক জবাব ইতোমধ্যে পাঠিয়েছে ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে এই জবাব পৌঁছে দেওয়া হয়েছে এবং এখন তাদের প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছে তেহরান।
ইরানের পক্ষ থেকে যুদ্ধ বন্ধে বেশ কিছু শর্ত উত্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—গুপ্তহত্যা ও সামরিক আগ্রাসন বন্ধের নিশ্চয়তা, ভবিষ্যতে একই ধরনের সংঘাত এড়াতে নিরাপত্তা গ্যারান্টি এবং যুদ্ধজনিত ক্ষয়ক্ষতির জন্য নির্দিষ্ট ক্ষতিপূরণ প্রদান।
এছাড়া সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে ইরান-সমর্থিত সব গোষ্ঠীসহ সকল ফ্রন্টে একযোগে যুদ্ধবিরতির দাবি জানিয়েছে দেশটি। হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের সার্বভৌম অধিকার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টিও জোর দিয়ে উল্লেখ করেছে তেহরান।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর আগে জেনেভায় অনুষ্ঠিত আলোচনায় ইরান যে দাবিগুলো তুলেছিল, বর্তমান শর্তগুলোর সঙ্গে সেগুলোরও মিল রয়েছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে ইরান। তাদের মতে, শান্তি আলোচনার আড়ালে ওয়াশিংটন কৌশলগতভাবে সময় নিচ্ছে—যার লক্ষ্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের শান্তিপ্রিয় হিসেবে তুলে ধরা, তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং সম্ভাব্য সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করা।




