মার্কিন প্রস্তাব নাকচ ইরানের—যুদ্ধ থামাতে দিল ৫ কঠোর শর্ত, বাড়ছে উত্তেজনা
ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্যোগে না, নিজেদের শর্তেই যুদ্ধবিরতি চায় তেহরান; ক্ষতিপূরণ থেকে হরমুজ পর্যন্ত স্পষ্ট দাবি


এবিএনএ: দীর্ঘ এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলমান সংঘাত থামাতে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। তেহরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, যুদ্ধের সমাপ্তি কখন এবং কীভাবে হবে—তা নির্ধারণ করবে শুধুমাত্র ইরান নিজেই এবং তাদের নির্ধারিত শর্ত পূরণের ওপরই নির্ভর করবে সবকিছু।
বুধবার দেশটির এক জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তা রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে যুদ্ধের শেষ নির্ধারণের সুযোগ দেওয়া হবে না। তিনি জানান, ইরান তার শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত প্রতিরক্ষা অভিযান চালিয়ে যাবে এবং প্রয়োজন হলে শত্রুপক্ষের ওপর আরও কঠোর আঘাত হানবে।
ওই কর্মকর্তা আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন কূটনৈতিক মাধ্যমে আলোচনা এগিয়ে নিতে চাইছে। তবে তেহরানের দৃষ্টিতে এসব উদ্যোগ বাস্তবতা আড়াল করার কৌশল। তিনি ২০২৫ সালে অনুষ্ঠিত দুই দফা আলোচনাকে ‘প্রতারণামূলক’ উল্লেখ করে বলেন, তখনও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো আন্তরিকতা ছিল না এবং পরে তারা সামরিক হামলা চালায়।
এবার একটি আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারী দেশের মাধ্যমে আসা নতুন প্রস্তাবকেও ইরান উত্তেজনা বাড়ানোর কৌশল হিসেবে দেখছে এবং তা প্রত্যাখ্যান করেছে।
যুদ্ধ বন্ধে ইরানের ৫ শর্ত
ইরান যুদ্ধবিরতির জন্য পাঁচটি নির্দিষ্ট শর্ত দিয়েছে—
১. শত্রুপক্ষকে সব ধরনের আগ্রাসন ও গুপ্তহত্যা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে হবে।
২. ভবিষ্যতে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হবে না—এমন কার্যকর নিশ্চয়তা থাকতে হবে।
৩. যুদ্ধের ফলে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির জন্য নির্দিষ্ট ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
৪. অঞ্চলের সব ফ্রন্টে এবং সংশ্লিষ্ট সব প্রতিরোধ গোষ্ঠীর সঙ্গে যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটাতে হবে।
৫. হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সার্বভৌম অধিকারকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি দিতে হবে।
ইরানি কর্মকর্তা জানান, এই শর্তগুলো আগের আলোচনায় উত্থাপিত দাবির সঙ্গেও যুক্ত থাকবে। সব শর্ত মেনে নেওয়া না হলে কোনো যুদ্ধবিরতি সম্ভব নয় বলে মধ্যস্থতাকারীদের জানিয়ে দিয়েছে তেহরান।
তিনি আরও বলেন, ইরান নিজস্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যুদ্ধ শেষ করবে—যুক্তরাষ্ট্রের সময়সূচি বা চাপে নয়।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি পরোক্ষ পারমাণবিক আলোচনা চলাকালে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলি খামেনি এবং শীর্ষ কর্মকর্তাদের ওপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই সংঘাতের সূচনা হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান ইতোমধ্যে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় প্রায় ৮০ দফা পাল্টা হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে।




