দুবাই বিমানবন্দর ও ফুজাইরাহ তেল বন্দরে ইরানের ড্রোন হামলা, উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন উত্তেজনা
ইউএইর গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনা ও বিশ্বের ব্যস্ততম বিমানবন্দরের কাছে হামলা; ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার দাবি আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের


এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের গুরুত্বপূর্ণ তেল বন্দর ও দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে নতুন করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। ইরানের সঙ্গে যুক্ত এই হামলার ঘটনাকে ঘিরে উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (১৬ মার্চ) দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আশপাশে ড্রোন-সংক্রান্ত একটি ঘটনার পর সেখানে আগুনের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য কিছু সময়ের জন্য বিমান চলাচল বন্ধ রাখা হয়।
একই সময়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পূর্ব উপকূলে অবস্থিত কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ ফুজাইরাহ বন্দরের তেল শিল্প এলাকায়ও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার পর সেখানে আগুন লাগে বলে জানা গেছে। ফুজাইরাহ অঞ্চলটি দেশটির অন্যতম বড় তেল সংরক্ষণাগার হিসেবে পরিচিত।
এদিকে রাজধানী আবুধাবির উপকণ্ঠে আল বাহিয়া এলাকায় একটি গাড়িতে রকেট হামলায় একজন ফিলিস্তিনি নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় মিডিয়া অফিস জানিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা দ্রুত বাড়ছে। এরই মধ্যে তেহরান সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিকে ১,৯০০টির বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
তবে ইউএইর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, সোমবার তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ছয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ২১টি ড্রোন সফলভাবে প্রতিহত করেছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ পরিস্থিতি শুরুর পর দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে এটি তৃতীয়বারের মতো ড্রোন হামলার ঘটনা। উল্লেখ্য, দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ততম বিমানবন্দর হিসেবে পরিচিত।
এই হামলার কারণে কিছু ফ্লাইট বিলম্বিত হয়েছে এবং কয়েকটি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ভাবমূর্তিতে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে বলে বিশ্লেষকদের মত।
ফুজাইরাহ বন্দর ভৌগোলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থান। এটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের পূর্ব উপকূলে ওমান উপসাগরের তীরে অবস্থিত। ফলে এখানকার জাহাজগুলোকে পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচল করতে হয় না, যা আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহনের ক্ষেত্রে বিশেষ কৌশলগত গুরুত্ব বহন করে।




