একাত্তরের গণহত্যার বিচার দাবিতে বাংলাদেশের পাশে ভারত, দিল্লির স্পষ্ট বার্তা
অপারেশন সার্চলাইটের নৃশংসতার স্বীকৃতিতে সমর্থন—আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচারে জোর দিচ্ছে নয়াদিল্লি


এবিএনএ: ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও বিচার দাবিতে বাংলাদেশের পাশে থাকার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে ভারত। নয়াদিল্লিতে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ সমর্থনের কথা জানানো হয়।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ১৯৭১ সালে ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর নামে পাকিস্তানি বাহিনী যে নির্মম অভিযান চালিয়েছিল, তা ছিল ইতিহাসের এক ভয়াবহ অধ্যায়। সেই সময় অসংখ্য নিরীহ মানুষকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয় এবং নারীদের ওপর সংঘটিত হয় ব্যাপক নির্যাতন।
শরণার্থী সংকট ও মানবিক বিপর্যয়
এই দমন-পীড়নের ফলে লাখো মানুষ জীবন বাঁচাতে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন এবং ভারতে আশ্রয় নেন। ভারতের মতে, ওই সময়ের মানবিক বিপর্যয় শুধু দক্ষিণ এশিয়া নয়, গোটা বিশ্বের বিবেককে নাড়া দিয়েছিল।
তবে ভারতের বক্তব্য অনুযায়ী, পাকিস্তান এখনো ওই ঘটনার দায় স্বীকার করেনি। তাই বাংলাদেশ যে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও বিচার চাইছে, সে দাবিকে ভারত পূর্ণ সমর্থন জানাচ্ছে।
অপারেশন সার্চলাইট: ইতিহাসের কালো অধ্যায়
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করে। নয় মাসব্যাপী এই দমন-পীড়নের অবসান ঘটে ১৬ ডিসেম্বর, যখন বাংলাদেশ-ভারত যৌথ বাহিনীর কাছে পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করে।
এই সময়ে প্রায় ৩০ লাখ মানুষ প্রাণ হারান এবং দুই লাখের বেশি নারী নির্যাতনের শিকার হন বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির প্রচেষ্টা
বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে এই হত্যাযজ্ঞকে আন্তর্জাতিকভাবে ‘গণহত্যা’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরাম ও আইনসভায় এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এবং সমর্থনও বাড়ছে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই স্বীকৃতি আদায়ের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে এবং বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
গণহত্যা দিবসের তাৎপর্য
প্রতি বছর ২৫ মার্চ বাংলাদেশে ‘গণহত্যা দিবস’ হিসেবে পালিত হয়। এ উপলক্ষে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয় এবং ইতিহাসের এই বেদনাদায়ক অধ্যায় স্মরণ করা হয়।
সরকারপ্রধান এক বার্তায় বলেন, ২৫ মার্চ বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক কলঙ্কময় দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে, যা কখনো ভোলার নয়।
বিশ্লেষণ
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের এই অবস্থান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের দাবিকে আরও শক্তিশালী করবে। একই সঙ্গে গণহত্যার স্বীকৃতি আদায়ে নতুন গতি আসতে পারে।




