তথ্য প্রযুক্তি

শিশুদের ক্ষতির দায়ে আদালতে বিপাকে গুগল-মেটা: ক্ষতিপূরণে নজিরবিহীন রায়

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ডিজাইন নিয়েই প্রশ্ন—কিশোরদের আসক্তির দায় এড়াতে পারবে না প্রযুক্তি জায়ান্টরা

এবিএনএ: শিশু ও কিশোরদের ওপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে বড় ধরনের আইনি সিদ্ধান্ত এসেছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। এক আদালতের রায়ে প্রযুক্তি জায়ান্ট গুগল ও মেটাকে দায়ী করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আর্থিক ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হয়েছে।

ক্যালিফোর্নিয়ায় দেওয়া এই রায়ে মোট ৬ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ ধার্য করা হয়েছে। এর মধ্যে মেটাকে ৪ দশমিক ২ মিলিয়ন এবং গুগলকে ১ দশমিক ৮ মিলিয়ন ডলার পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ডিজাইন নিয়েই মূল অভিযোগ

আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, এই দুই প্রতিষ্ঠানের প্ল্যাটফর্ম এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যা তরুণ ব্যবহারকারীদের দীর্ঘ সময় ধরে যুক্ত রাখতে উৎসাহিত করে এবং তা তাদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

মামলাটি করেছিলেন এক তরুণী, যিনি অল্প বয়সে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে আসক্ত হয়ে পড়েন। আদালতে তিনি জানান, ভিডিও প্ল্যাটফর্ম ও ছবি শেয়ারিং অ্যাপের কিছু নির্দিষ্ট ফিচার—বিশেষ করে ‘ইনফিনিট স্ক্রল’—তাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে রাখত।

জুরির পর্যবেক্ষণ

জুরি বোর্ড মনে করেছে, এই ধরনের ডিজাইন ব্যবহারকারীদের আচরণ প্রভাবিত করে এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে যথাযথ সতর্কতা দেওয়া হয়নি। ফলে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো অবহেলার দায় এড়াতে পারে না।

নতুন আইনি দৃষ্টান্ত

এই মামলার বিশেষ দিক হলো—এখানে ব্যবহারকারীর কনটেন্ট নয়, বরং প্ল্যাটফর্মের গঠন ও ডিজাইনকেই দায়ী করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত আইনে সাধারণত কনটেন্টের জন্য কোম্পানিগুলো দায়মুক্তি পায়। কিন্তু এই রায় সেই ধারণায় নতুন প্রশ্ন তুলেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। একই ধরনের অভিযোগে আরও বহু মামলা হতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কোম্পানিগুলোর প্রতিক্রিয়া

রায়ের সঙ্গে একমত নয় গুগল ও মেটা। তারা ইতোমধ্যে জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।

অন্যদিকে, একই মামলায় জড়িত আরও দুটি প্ল্যাটফর্ম—স্ন্যাপ ও টিকটক—শুরুতেই সমঝোতায় পৌঁছায়, ফলে তারা বিচার প্রক্রিয়ার বাইরে থাকে।

বড় প্রভাবের ইঙ্গিত

গত এক দশকে শিশু-কিশোরদের অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে উদ্বেগ বাড়ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব নিয়ে বিতর্ক এখন আদালত ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে পৌঁছেছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই রায়ের ফলে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের প্ল্যাটফর্ম আরও নিরাপদ করতে বাধ্য করা হতে পারে। পাশাপাশি শিশুদের সুরক্ষায় নতুন আইন ও নীতিমালাও আসতে পারে।

উপসংহার

সব মিলিয়ে, এই রায় ডিজিটাল বিশ্বের জবাবদিহিতার প্রশ্নে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে এবং ভবিষ্যতে আরও বড় আইনি লড়াইয়ের আভাস দিচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button