গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনকে কড়া হুঁশিয়ারি ফ্রান্সের: সীমা ছাড়ালে বদলে যাবে বিশ্ব রাজনীতি
যুক্তরাষ্ট্র কোনো পদক্ষেপ নিলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে—ইঙ্গিত প্যারিসের


এবিএনএ: গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি স্পষ্ট ও কঠোর বার্তা দিয়েছে ফ্রান্স। দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই বিষয়ে কোনো একতরফা পদক্ষেপ নিলে তা ইউরোপীয় ইউনিয়নের জন্য ‘সীমা অতিক্রম’ হিসেবে বিবেচিত হবে।
ফ্রান্সের অর্থমন্ত্রী রোনাল্ড লেসকুরে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমস–কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, সম্প্রতি তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি মন্ত্রী স্কট বেসেন্টের সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা করেছেন। সেই আলোচনায় লেসকুরে স্পষ্টভাবে জানান, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কোনো আগ্রাসী বা দখলমূলক উদ্যোগ নিলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার অর্থনৈতিক সম্পর্ক মারাত্মক সংকটে পড়তে পারে।
লেসকুরের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি মার্কিন কর্মকর্তাকে বলেন, গ্রিনল্যান্ড একটি সার্বভৌম অঞ্চল এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের অংশ হিসেবে বিবেচিত। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জড়ানো উচিত নয়। তিনি আরও সতর্ক করেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি সব সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে গ্রিনল্যান্ডে সামরিক বা রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ করে, তাহলে বিশ্ব ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।
বিশ্বের বৃহত্তম দ্বীপ গ্রিনল্যান্ডের আয়তন প্রায় ২১ লাখ বর্গকিলোমিটার হলেও জনসংখ্যা মাত্র ৫৬ হাজারের কিছু বেশি। জনসংখ্যার সিংহভাগই ইনুইট জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। উত্তর আমেরিকায় অবস্থিত হলেও এটি ডেনমার্কের অধীন একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল এবং এর বাসিন্দারা ইউরোপীয় ইউনিয়নের নাগরিক হিসেবে গণ্য হন।
ভৌগোলিকভাবে আর্কটিক অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় গ্রিনল্যান্ড বছরের অধিকাংশ সময় বরফে ঢাকা থাকে। তবে ভূতাত্ত্বিক গবেষণায় দ্বীপটির নিচে বিপুল পরিমাণ খনিজ ও জ্বালানি সম্পদের অস্তিত্বের কথা উঠে এসেছে, যা আন্তর্জাতিক আগ্রহ বাড়িয়েছে।
২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে আনার আগ্রহ জানিয়ে আসছেন। সর্বশেষ ১০ জানুয়ারি হোয়াইট হাউসে এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র পদক্ষেপ না নিলে চীন বা রাশিয়া সেখানে প্রভাব বিস্তার করতে পারে—যা ওয়াশিংটনের জন্য অগ্রহণযোগ্য।
এই বক্তব্যের পরই ইউরোপজুড়ে কূটনৈতিক উদ্বেগ আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।




