জাতীয়

ঈদযাত্রার চাপে আব্দুল্লাহপুরে মানুষের স্রোত, বাস সংকটে বাড়তি ভাড়া ও ঘণ্টার পর ঘণ্টা দুর্ভোগ

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে তীব্র যানজট; বাস না পেয়ে ট্রাকসহ বিকল্প যানবাহনে বাড়ি ফিরছেন যাত্রীরা

এবিএনএ: পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে রাজধানী ঢাকা থেকে ঘরে ফিরতে শুরু করেছেন হাজারো মানুষ। এতে উত্তরের প্রবেশপথ হিসেবে পরিচিত আব্দুল্লাহপুর এলাকায় যাত্রীদের ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছে। বাসের সংকট ও যানজটের কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন ঘরমুখো মানুষ।

সোমবার (১৬ মার্চ) সন্ধ্যার দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের এয়ারপোর্ট, আজমপুর, হাউজ বিল্ডিং ও আব্দুল্লাহপুর এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সড়কের পাশে অসংখ্য যাত্রী বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছেন। যাত্রীদের চাপ বেড়ে যাওয়ায় আব্দুল্লাহপুর থেকে গাজীপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত মহাসড়কে যানবাহন ধীরগতিতে চলাচল করছে।

যাত্রীদের অভিযোগ, আন্তঃজেলা ও স্থানীয় রুটের অনেক বাস নির্ধারিত রুটে চলাচল না করে বেশি লাভের আশায় একাধিক ট্রিপ দিচ্ছে। ফলে নির্দিষ্ট রুটে বাসের সংখ্যা কমে গিয়ে সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি বেড়ে গেছে।

তারা আরও জানান, ঢাকা থেকে রংপুরগামী বাসের ভাড়া সাধারণ সময়ে যেখানে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকার মধ্যে থাকে, সেখানে বর্তমানে ১৫০০ থেকে ১৬০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। বাস না পেয়ে অনেক যাত্রী বাধ্য হয়ে ট্রাক বা অন্য বিকল্প যানবাহনে বাড়ির পথে রওনা দিচ্ছেন। এসব ট্রাকেও জনপ্রতি প্রায় ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।

রংপুরগামী যাত্রী রিয়াজুল বলেন, “সাধারণ সময়ে রংপুর যেতে ৫০০ টাকা লাগে। কিন্তু এখন বাসে উঠতেই ১৫০০ টাকা চাইছে। উপায় না থাকায় সেই ভাড়াতেই যেতে হচ্ছে।”

অন্যদিকে ময়মনসিংহগামী গার্মেন্টসকর্মী রহিমা খাতুন জানান, বিকেল থেকে বাসের জন্য অপেক্ষা করলেও কোনো বাস পাচ্ছেন না। তিনি বলেন, “যাত্রী অনেক কিন্তু বাস খুব কম। মনে হচ্ছে শেষ পর্যন্ত ট্রাকেই যেতে হবে।”

তবে পরিবহন কাউন্টার সংশ্লিষ্টরা অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, ঈদের সময়ে অনেক বাস যাত্রী ছাড়াই ঢাকায় ফিরে আসে। সেই কারণে কিছু ক্ষেত্রে ভাড়া সামান্য বাড়তে পারে।

উত্তরার আজমপুর এলাকার একটি পরিবহন কাউন্টারের ব্যবস্থাপক বাচ্চু মিয়া বলেন, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুর অংশে বিভিন্ন স্থানে যানবাহনের ধীরগতির কারণে গাড়ি সময়মতো পৌঁছাতে পারছে না। এতে নির্ধারিত শিডিউল বিঘ্নিত হচ্ছে এবং যাত্রীদের কিছুটা অসুবিধা হচ্ছে। তবে যাত্রীদের সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button