লাখো যাত্রীর ভিড়ে মাত্র ৩১ হাজার আসন! ঈদযাত্রায় রেলের কঠোর প্রস্তুতি, স্টেশনে বাঁশের ব্যারিকেড
ঈদুল ফিতর সামনে রেখে ট্রেনের টিকিট বিক্রি শেষ করেছে রেলওয়ে। সীমিত আসনের বিপরীতে বিপুল যাত্রীর চাপ সামলাতে স্টেশনে জিকজ্যাক ব্যারিকেড ও তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।


এবিএনএ: আসন্ন ঈদুল ফিতরকে ঘিরে ঘরমুখো মানুষের চাপ সামাল দিতে বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছে Bangladesh Railway। ইতোমধ্যে ঢাকা থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়ার অগ্রিম ট্রেন টিকিট বিক্রি শেষ হয়েছে এবং সব টিকিটই অনলাইনে দেওয়া হয়েছে।
তবে যাত্রী চাহিদার তুলনায় আসন সংখ্যা খুবই সীমিত হওয়ায় এবার ঈদযাত্রা ঘিরে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা থেকে প্রতিদিন বিভিন্ন গন্তব্যে চলাচলকারী ট্রেনে সর্বোচ্চ ৩১ হাজার ২৫৫টি আসন রয়েছে। অথচ বাড়ি ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন কয়েক লাখ মানুষ।
এই বিশাল ব্যবধান সামাল দিতে রাজধানীর প্রধান স্টেশন Kamalapur Railway Station–সহ গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
স্টেশনে বাঁশের ‘জিকজ্যাক’ ব্যারিকেড
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানায়, অতিরিক্ত ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং টিকিটবিহীন যাত্রীদের প্রবেশ ঠেকাতে স্টেশনের প্রবেশপথে বাঁশ দিয়ে জিকজ্যাক পদ্ধতির অস্থায়ী পথ তৈরি করা হয়েছে।
ঢাকা, বিমানবন্দর ও জয়দেবপুর স্টেশনে এই বিশেষ ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। প্ল্যাটফর্মে প্রবেশের আগে যাত্রীদের টিকিট এবং জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) পরীক্ষা করা হবে। কোনো যাত্রী যেন বিনা টিকিটে স্টেশনে প্রবেশ করতে না পারে—সেজন্য তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, স্টেশনে মোট ছয়টি আলাদা প্রবেশপথ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে একটি পথ দিয়ে স্ট্যান্ডিং টিকিটধারীরা প্রবেশ করবেন, চারটি পথ মূল যাত্রীদের জন্য এবং আরেকটি পথ যাতায়াতের জন্য নির্ধারিত।
বাড়তি নিরাপত্তা ও নজরদারি
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্টেশনের প্রবেশমুখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কন্ট্রোল রুম বসানো হয়েছে। এ কাজে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করবে Rapid Action Battalion, Railway Nirapotta Bahini, পুলিশসহ অন্যান্য বাহিনী।
রেললাইন ও চলন্ত ট্রেনে নাশকতা প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি ভিজিল্যান্স টিমও কাজ করবে। এছাড়া ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ বন্ধ ও টিকিটের কালোবাজারি রোধে বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনের ব্যবস্থাপক মো. সাজেদুল ইসলাম বলেন, যাত্রীদের নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক যাত্রা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। টিকিটবিহীন যাত্রীদের প্রবেশ ঠেকাতে স্টেশনে কঠোর নজরদারি থাকবে।
বিশেষ ট্রেন ও সময়সূচি
ঈদ উপলক্ষে যাত্রীদের চাপ কমাতে এবার পাঁচ জোড়া বিশেষ ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী সব আন্তনগর ট্রেনের সাপ্তাহিক ছুটি সাময়িকভাবে বাতিল করা হয়েছে।
আগামী ১৬ এপ্রিল থেকে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত এসব ট্রেন নিয়মিত চলবে। তবে ঈদের দিন কোনো আন্তনগর ট্রেন চলাচল করবে না।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম–চাঁদপুর, ঢাকা–দেওয়ানগঞ্জ, ভৈরববাজার–কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ–কিশোরগঞ্জ এবং জয়দেবপুর–পার্বতীপুর রুটে বিশেষ ট্রেন চলবে।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা
যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ও Bangladesh University of Engineering and Technology–এর অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান মনে করেন, চাহিদা ও সক্ষমতার বিশাল ব্যবধানের কারণে ঈদের সময় চাপ সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
তার মতে, স্টেশনে ব্যারিকেড বা কঠোর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নেওয়া হলেও আসনসংখ্যা কম থাকায় শেষ পর্যন্ত অনেক যাত্রী সমস্যায় পড়তে পারেন।




