ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে ডিএসসিসির কঠোর পদক্ষেপ—সায়েদাবাদে উচ্ছেদ হবে অবৈধ কাউন্টার
যানজট কমাতে টার্মিনাল ব্যবস্থাপনায় বড় পরিবর্তন; যাত্রীসেবা বাড়াতে তথ্যকেন্দ্র ও মাতৃদুগ্ধ কক্ষ স্থাপনের পরিকল্পনা।


এবিএনএ: আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা স্বস্তিদায়ক ও নিরাপদ করতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি)। টার্মিনাল ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনতে এবং সড়কে যানজট কমাতে বেশ কয়েকটি কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার নগর ভবন এ অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম । এতে ডিএসসিসি, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, বাস মালিক সমিতি এবং শ্রমিক প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সভায় জানানো হয়, যাত্রীদের ভোগান্তি কমানো এবং ঈদযাত্রাকে নির্বিঘ্ন করতে টার্মিনাল ব্যবস্থাপনায় আধুনিক পদ্ধতি চালু করা হবে। পাশাপাশি অবৈধ টিকিট কাউন্টার উচ্ছেদ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
অবৈধ কাউন্টার ও দোকান উচ্ছেদ
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সায়েদাবাদ আন্ত;জেলা বাস টার্মিনাল এলাকার সড়কের পাশে থাকা অবৈধ টিকিট কাউন্টার ও দোকানগুলো নির্দিষ্ট সময়ের নোটিশ দিয়ে সরিয়ে ফেলা হবে। সায়েদাবাদ ব্রিজের ঢাল থেকে টিটি পাড়া পর্যন্ত এসব অবৈধ স্থাপনা অপসারণে অভিযান চালানো হবে।
নিয়ম অনুযায়ী কাউন্টার বরাদ্দ
টার্মিনালের ভেতরে কেবল প্রকৃত বাস কোম্পানিগুলোর জন্য নির্দিষ্ট নীতিমালার ভিত্তিতে কাউন্টার বরাদ্দ দেওয়া হবে। এ কাজে বাস মালিক সমিতি, ডিএসসিসি ও ট্রাফিক পুলিশ সমন্বিতভাবে কাজ করবে।
নির্ধারিত বাস-বে ব্যবহার বাধ্যতামূলক
টার্মিনালকে ডিপো হিসেবে ব্যবহার না করে বাসগুলোকে নির্ধারিত পাঁচটি বাস-বে ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। যাত্রী ওঠানামার জন্য বাস সর্বোচ্চ ২০ থেকে ৩০ মিনিট অবস্থান করতে পারবে।
যাত্রীসেবা ও অবকাঠামো উন্নয়ন
যাত্রীদের সুবিধা বাড়াতে টার্মিনালে নতুন তথ্যকেন্দ্র স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি মায়েদের জন্য মাতৃদুগ্ধ পান করানোর আলাদা কক্ষ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া ঈদের আগেই টার্মিনালের অসমাপ্ত সংস্কার কাজ শেষ করা, শৌচাগার সংস্কার এবং জলাবদ্ধতা দূর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ে নজরদারি
ঈদ উপলক্ষে বাড়তি যাত্রীচাপের সুযোগ নিয়ে কোনো পরিবহন যেন অতিরিক্ত ভাড়া নিতে না পারে—এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে পরিবহন মালিকদের প্রতি।
পরিত্যক্ত বাস অপসারণ
টার্মিনালের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা পরিত্যক্ত বাসগুলো জব্দ করে সরিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ট্রাফিক বিভাগকে। এতে সড়কের যানজট কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সভাপতির বক্তব্যে প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম বলেন, ঈদযাত্রাকে নির্বিঘ্ন করতে সিটি কর্পোরেশন, পুলিশ এবং পরিবহন সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। যাত্রীদের স্বস্তি নিশ্চিত করতে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।




