ভোটের আগের রাতে ঢাকায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা: চেকপোস্টে তল্লাশি, পথে পথে টহল
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট নির্বিঘ্ন করতে রাজধানীজুড়ে র্যাব, পুলিশ, বিজিবি ও সেনাবাহিনীর কড়া নিরাপত্তা


এবিএনএ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে ঘিরে রাজধানী ঢাকাকে কার্যত নিরাপত্তার বলয়ে ঢেকে ফেলা হয়েছে। ভোটের পরিবেশ শান্ত রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রাজধানীর প্রধান সড়ক থেকে অলিগলি পর্যন্ত চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছে। বিশেষ রোবাস্ট ও মোবাইল টহলের পাশাপাশি ফুট পেট্রোলিং বাড়ানো হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞা থাকায় মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ি থামিয়ে যাচাই করা হচ্ছে; যুক্তিসংগত কারণ দেখাতে না পারলে যানবাহন জব্দও করা হচ্ছে।
র্যাবের মহাপরিচালক একেএম শহিদুর রহমান জানিয়েছেন, নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও কোনো ধরনের অনিয়ম ঠেকাতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, ভোট জালিয়াতি, কেন্দ্র দখল কিংবা ফলাফল মানতে অস্বীকৃতি জানিয়ে সহিংসতায় জড়াতে চাইলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোথাও বিচ্ছিন্নভাবে পরিস্থিতি অশান্ত হলে প্রয়োজনে নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের ভোট স্থগিত বা বাতিলের সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের ঘটনা ঠেকাতে মাঠে সার্বক্ষণিক নজরদারি চলছে। ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে যৌথভাবে টহল জোরদার করা হয়েছে, যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটার আগেই ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে বিজিবির টহল চোখে পড়ছে—সামনে পিকআপ, পেছনে এপিসি নিয়ে সাইরেন বাজিয়ে চলাচল করছে টহল দল। সেনাবাহিনীও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অবস্থান নিয়েছে। শের-ই-বাংলা নগর এলাকায় দায়িত্বরত সেনা কর্মকর্তারা জানান, প্রতিটি ওয়ার্ড ও ভোটকেন্দ্রের আশপাশে নিয়মিত টহল চলছে, যাতে কেউ অবৈধ অস্ত্র বা বিস্ফোরক নিয়ে প্রবেশ করতে না পারে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাজধানীতে বড় ধরনের কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকির তথ্য নেই। তবু আগাম সতর্কতায় প্রায় ২৬ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন রাখা হয়েছে। ডিএমপির মিডিয়া সেল বলছে, চেকপোস্টের পাশাপাশি মোবাইল ও ফুট পেট্রোলিং জোরদার করা হয়েছে এবং সন্দেহজনক চলাচলের ওপর নজরদারি চলছে।
ভোটারদের উদ্দেশে ডিএমপি আশ্বস্ত করেছে—নিরাপত্তা বাহিনী পাশে আছে। নাগরিকরা নির্ভয়ে কেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন, নির্বাচন ঘিরে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ প্রস্তুতিতে রয়েছে।




