দশ বছরের অপেক্ষার পর পাঁচ সন্তানের জন্ম
দীর্ঘ দশ বছর সন্তানের জন্য অপেক্ষার পর এক দম্পতির ঘরে একসঙ্গে জন্ম নিল পাঁচ সন্তান, আনন্দে ভাসছে পরিবার ও এলাকাবাসী।


এবিএনএ,চট্টগ্রাম: এক নারী দীর্ঘ ১০ বছর নিঃসন্তান থাকার পর একসঙ্গে ৫ সন্তানের মা হয়েছেন। জন্ম নেওয়া সন্তানদের মধ্যে দুই ছেলে ও তিন মেয়ে রয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মা ও নবজাতকরা সুস্থ আছেন। তবে নিরাপত্তার কারণে নবজাতকদের পার্কভিউ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (এনআইসিইউ) রাখা হয়েছে।
সোমবার (৮ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে চারটার দিকে চট্টগ্রামের পিপলস হাসপাতালে। জানা গেছে, এনি আক্তার (৩০) বিয়ের দশ বছর পার হলেও সন্তান হচ্ছিল না। পরে তাঁরা ডা. ফরিদা ইয়াসমিন সুমির পরামর্শে ইন্ট্রা-ইউটেরাইন ইনসেমিনেশন (আইইউআই) পদ্ধতি গ্রহণ করেন। প্রথম মাসেই এ পদ্ধতিতে সফলতা আসে এবং দম্পতি সন্তানসুখের আশায় উল্লসিত হন। হাসপাতালের কর্মকর্তা মানিক জানিয়েছেন, বিকেলের দিকে এনি আক্তার প্রসূতি ব্যথা নিয়ে ভর্তি হন। ডা. সুমির তত্ত্বাবধানে পাঁচ সন্তানের জন্ম সম্পন্ন হয়। সকল নবজাতকের ওজন স্বাভাবিক এবং তাদের স্বাস্থ্য ঠিক আছে।নবজাতকরা বর্তমানে এনআইসিইউতে রাখা হয়েছে যাতে তারা পর্যাপ্ত যত্ন ও নজরদারির মধ্যে থাকে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, প্রথম কয়েক সপ্তাহের পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ে বিশেষ যত্ন নেওয়া হচ্ছে যাতে সব শিশু স্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়।
পরিবারের সদস্যরা সন্তানদের জন্মে আনন্দিত। তারা জানিয়েছেন, দীর্ঘ ১০ বছরের অপেক্ষার পর একসঙ্গে পাঁচ সন্তান জন্মের ঘটনা তাদের জন্য এক নতুন আনন্দের সূচনা। পরিবার নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য প্রস্তুত।ডা. সুমি বলেন, একাধিক সন্তানের জন্মের ক্ষেত্রে মা ও শিশুদের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সতর্কতা খুবই জরুরি। তাই হাসপাতালের বিশেষজ্ঞরা সব সময় তাদের তত্ত্বাবধানে রেখেছেন। ভবিষ্যতে তারা স্বাভাবিকভাবে বাড়ি ফিরবেন বলে আশা করা হচ্ছে।এই ঘটনা চট্টগ্রামের চিকিৎসা জগতে বিরল একটি ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মা ও শিশুদের সুস্থতা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে। এটি নিঃসন্তান দম্পতিদের জন্য আশা ও আনন্দের এক দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. ফরিদা ইয়াসমিন সুমি জানিয়েছেন, জন্মপ্রক্রিয়া স্বাভাবিকভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল মা এবং নবজাতকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পাঁচ শিশুর জন্ম হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজনের ওজন যথাক্রমে ১ হাজার ৬০০ গ্রাম, ১ হাজার ৫০০ গ্রাম ও ১ হাজার ৪০০ গ্রাম। বাকি দুজনের ওজন ১ হাজার গ্রাম। সকল নবজাতক সুস্থ ও স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে।




