আন্তর্জাতিক

পশ্চিমা শক্তিকে চাপে রাখতে চীন-রাশিয়ার নতুন জোট: ইউক্রেন যুদ্ধ ঘিরে গভীর হচ্ছে কৌশলগত বন্ধুত্ব

ড্রোন, অস্ত্র ও গোয়েন্দা সহায়তায় রাশিয়ার পাশে দাঁড়িয়েছে চীন; ইউয়ান মুদ্রায় বাড়ছে বাণিজ্য, দুর্বল হচ্ছে পশ্চিমা প্রভাব

এবিএনএ: ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের মধ্য দিয়ে বিশ্ব রাজনীতির ভারসাম্য নতুন মোড় নিয়েছে। পশ্চিমা জোটকে চাপে রাখতে এবার আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে চীন ও রাশিয়া। সামরিক, প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতায় দুই দেশের বন্ধুত্ব এখন অভূতপূর্ব উচ্চতায় পৌঁছেছে। বিশ্লেষকদের মতে, চীন রাশিয়ার পরাজয় চায় না; বরং এই যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী করে পশ্চিমা শক্তিকে দুর্বল করতেই দুই পরাশক্তি একাট্টা হচ্ছে।

চীন নানাভাবে রাশিয়াকে সহায়তা দিচ্ছে—স্যাটেলাইট ডেটা সরবরাহ থেকে শুরু করে যুদ্ধাস্ত্রের প্রযুক্তিগত সহায়তা পর্যন্ত। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি অভিযোগ করেছেন, বেইজিং মস্কোর সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ চেইনকে সচল রেখেছে এবং ইউক্রেনের প্রতি সামরিক সহায়তা বন্ধ করে দিয়েছে।

ইউক্রেনীয় গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যমতে, রাশিয়া ইউক্রেনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর সময় চীনের ইয়াওগান-৩৩ সিরিজের অন্তত তিনটি গোয়েন্দা স্যাটেলাইট পশ্চিম ইউক্রেনের আকাশে ঘুরতে দেখা গেছে। এটি দুই দেশের কৌশলগত সহযোগিতার সুস্পষ্ট প্রমাণ বলে দাবি করা হচ্ছে।

রাশিয়ার অস্ত্র কারখানায় চীনা প্রযুক্তি

রাশিয়ার প্রায় ২০টি সামরিক কারখানায় চীনের তৈরি মেশিন টুলস, বিশেষ রাসায়নিক, বারুদ ও যান্ত্রিক সরঞ্জাম সরবরাহ করা হচ্ছে। যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়ার ব্যবহৃত ড্রোন ও ইলেকট্রনিক ডিভাইসের প্রায় ৮০ শতাংশই এসেছে চীনা কারখানা থেকে। চীনের সহযোগিতায় রাশিয়া এখন নতুন প্রজন্মের কামিকাজে ড্রোন তৈরি করছে, যা ইউক্রেনীয় শহরগুলোতে হামলার কার্যকারিতা বাড়িয়েছে।

অর্থনৈতিক নির্ভরতা বাড়ছে

চীন-রাশিয়ার অর্থনৈতিক সম্পর্কও নজিরবিহীনভাবে বেড়েছে। ২০২৪ সালে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৪৫ বিলিয়ন ডলারে—যা ২০২০ সালের তুলনায় দ্বিগুণ। রাশিয়ার তেল ও গ্যাস রপ্তানিতে চীনের অংশীদারিত্ব ক্রমেই বাড়ছে। এখন রাশিয়ার মোট বাণিজ্যের প্রায় ৪০ শতাংশ লেনদেন হচ্ছে চীনা মুদ্রা ইউয়ানে, যা ২০২২ সালে ছিল মাত্র ২ শতাংশ।

রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা

২০১২ সাল থেকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন অন্তত ৪০ বারের বেশি বৈঠক করেছেন। নিয়মিত কূটনৈতিক আলোচনায় দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর হচ্ছে। সম্প্রতি মস্কো সফরে পুতিন-শি বৈঠক দুই দেশের সীমাহীন অংশীদারত্বের প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের সতর্কবার্তা

বিশ্লেষক বিল কোল বলেন, “চীন-রাশিয়া কেবল প্রযুক্তি ভাগাভাগি করছে না, বরং আধুনিক যুদ্ধের অভিজ্ঞতাও একে অপরের সঙ্গে বিনিময় করছে।” তাঁর মতে, পশ্চিমা দেশগুলো ঐক্যবদ্ধভাবে এই কৌশলগত জোটের মোকাবিলা না করলে, ভবিষ্যতে কর্তৃত্ববাদী শক্তিগুলো আরও প্রযুক্তিগতভাবে শক্তিশালী হয়ে উঠবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button