উত্তাল চট্টগ্রাম, হাদির হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি
ইনকিলাব মঞ্চের নেতা হাদি হত্যার ঘটনায় চট্টগ্রামে বিক্ষোভ, ন্যায়বিচারের দাবিতে রাজপথে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ


এবিএনএ,চট্টগ্রাম: শরীফ ওসমান বিন হাদির মৃত্যুর খবরে চট্টগ্রামে উত্তাল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। হাদির হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে বৃহস্পতিবার রাত ১১ টার দিকে চট্টগ্রাম নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকা দুই নম্বর গেইটে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভে নেমেছেন জুলাই আন্দোলনের কর্মী-সমর্থকরা।
বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে হাদির মৃত্যুর খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিক্ষুব্ধ জনতা নগরের ষোলশহর দুই নম্বর গেট এলাকায় অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। ক্ষোভে ফেটে পড়েন তার অনুসারীরা। রাত সাড়ে ১১টার দিকে কয়েকশ বিক্ষোভকারী দুই নম্বর গেইট মোড়ে জড়ো হয়ে সড়কের মাঝখানে অবস্থান নেন। এতে নগরীর এই ব্যস্ত সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায় এবং সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ইনকিলাব মঞ্চের চট্টগ্রাম মহানগরের এক সংগঠক বলেন,’শরীফ ওসমান বিন হাদি শুধু একজন নেতা ছিলেন না, তিনি আমাদের আন্দোলনের সাহস ও অনুপ্রেরণা ছিলেন। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই—হাদির হত্যার সুষ্ঠু বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।’ তিনি আরও বলেন, প্রশাসন যদি এই ঘটনায় গড়িমসি করে, তাহলে আন্দোলন আরও কঠোর কর্মসূচির দিকে যাবে।
বিক্ষোভ চলাকালে তারা চট্টগ্রামে অবস্থিত ভারতীয় সহকারী হাইকমিশন ঘেরাও করার ঘোষণা দেন এবং হাইকমিশন বন্ধের দাবি তোলেন। এছাড়া নগরের অন্যান্য এলাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের সামনে বিক্ষোভের খবরও পাওয়া গেছে। রাত ১১টার পরে বিক্ষুব্ধরা দুই নম্বর গেট এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের চশমা হিলের বাসভবনের দিকে যান। সেখানে ভবনের সামনে থাকা একটি মোটরসাইকেলে আগুন জ্বালিয়ে তারা ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চালান।
এদিকে হাদির মৃত্যুর ঘটনায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন,“কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। সবাইকে শান্ত থাকার অনুরোধ করছি। কারও ফাঁদে পা দেওয়া যাবে না।”
বিক্ষোভকারীদের দাবি, হাদির মৃত্যুর পেছনে সুস্পষ্ট ষড়যন্ত্র রয়েছে এবং এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। তারা অভিযোগ করেন, এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো পরিষ্কার বক্তব্য না আসায় জনমনে আরও সন্দেহ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।




