রাজনীতি

ভোটার স্বাক্ষরের গরমিলেই বড় ধাক্কা: চট্টগ্রাম ও ফেনীতে বাতিল ৫৩ প্রার্থীর মনোনয়ন

১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর যাচাইয়ে ত্রুটি ধরা পড়ায় দুই জেলায় ২২ স্বতন্ত্রসহ মোট ৫৩ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে নির্বাচন কর্তৃপক্ষ।

এবিএনএ: চট্টগ্রাম ও ফেনী জেলার বিভিন্ন সংসদীয় আসনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে মোট ৫৩ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থীই রয়েছেন ২২ জন। নির্বাচন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মূলত ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরসংবলিত সমর্থন তালিকায় গরমিল পাওয়ায় এসব মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনে স্বতন্ত্রসহ মোট ১৪৩ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। চার দিনব্যাপী যাচাই শেষে ৪১ জনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। এর মধ্যে ১৬ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী। কয়েকটি আসনে ভোটার তালিকার তথ্য মিল না পাওয়া ছাড়াও ঋণখেলাপি ও দলীয় মনোনয়নসংক্রান্ত জটিলতার কারণেও প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে।

চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মোয়াহেদুল মাওলার মনোনয়ন বাতিল হয় ঋণখেলাপি হওয়ায়। চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনে ১ শতাংশ ভোটারের তথ্য যাচাইয়ে অসংগতি ধরা পড়ায় তিন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। একই কারণে চট্টগ্রামের একাধিক আসনে আরও কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রার্থিতা হারান।

এ ছাড়া দলীয় মনোনয়ন ছাড়াই প্রার্থী হওয়া এবং প্রস্তাবকের স্বাক্ষরসংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগে চট্টগ্রাম-১৩ আসনের আলী আব্বাসের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। কয়েকটি আসনে দলীয় মনোনয়ন না থাকায় এবং ভোটার স্বাক্ষরের সত্যতা প্রমাণিত না হওয়ায় আরও একাধিক প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়।

চট্টগ্রামের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন চৌধুরী জানান, যাদের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে, তারা আপিল করার সুযোগ পাবেন। আগামী ৯ জানুয়ারি বিকেল ৫টা পর্যন্ত আপিল গ্রহণ করা হবে এবং ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি আপিল নিষ্পত্তি কার্যক্রম চলবে।

ফেনী জেলার তিনটি আসনেও একই ধরনের কারণে মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। ফেনী-১, ফেনী-২ ও ফেনী-৩ আসনে মোট ১২ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে আয়কর নথি দাখিল না করা, ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ না করা, হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকা এবং ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরসংক্রান্ত গরমিল প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।

ফেনী জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মনিরা হকের তত্ত্বাবধানে যাচাই-বাছাই কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। নির্বাচন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিয়ম মেনে আপিল করলে বাতিল হওয়া প্রার্থীদের বিষয় পুনরায় বিবেচনা করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button