জোটের দ্বন্দ্বে উত্তাল চট্টগ্রাম-৮, উন্মুক্ত নির্বাচন চান শহীদ ওমরের মা
জামায়াত-এনসিপির টানাপড়েনের মধ্যে স্থানীয় ভোটাধিকার রক্ষার আহ্বান রুবি আক্তারের


এবিএনএ: চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও) আসনের নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে এবার উন্মুক্ত নির্বাচনের দাবি তুলেছেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ওমর ফারুকের মা রুবি আক্তার। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নির্বাচন ক্যাম্পেইনের প্রথম দিনে তিনি এ দাবি জানান।
চট্টগ্রামে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার নির্বাচনী সফরকালে বোয়ালখালীর ফুলতলায় আয়োজিত জনসভায় উপস্থিত হয়ে রুবি আক্তার বলেন, এই আসনে দলীয় হিসাবের চেয়ে স্থানীয় জনগণের মতামতই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর ভাষায়, এলাকার মানুষ যাকে চেনে ও বিশ্বাস করে, তাকেই ভোট দিতে চায়।
এই দাবি উঠে আসে এমন এক সময়ে, যখন ১০ দলীয় জোটের আসন বণ্টনকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির মধ্যে প্রকাশ্য মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। গত ২০ জানুয়ারি জোটের পক্ষ থেকে চট্টগ্রাম-৮ আসনে এনসিপির জুবাইরুল হাসান আরিফকে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকেই জোটের ভেতরে ও মাঠপর্যায়ে নানা জটিলতা শুরু হয়।
মনোনয়ন যাচাইয়ে জামায়াত, এনসিপি ও খেলাফত মজলিস—এই তিন দলের প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষিত হলে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়। পরে খেলাফত মজলিস প্রার্থী সরে দাঁড়ালেও জামায়াতের প্রার্থী ডা. আবু নাছের মনোনয়ন প্রত্যাহার না করায় এনসিপি অসন্তোষ প্রকাশ করে।
যদিও পরে জামায়াত আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়, তবু মাঠপর্যায়ে আবু নাছেরের সমর্থকদের একটি অংশ দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে যেতে থাকে। এতে ভোটের সমীকরণ আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।
স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন ধরে বোয়ালখালী-চান্দগাঁও এলাকায় সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকায় ডা. আবু নাছের একজন পরিচিত মুখ। অন্যদিকে, শেষ মুহূর্তে প্রার্থী ঘোষণায় এনসিপির প্রার্থী এলাকায় তেমন পরিচিত নন বলেই আলোচনা চলছে।
এই প্রেক্ষাপটে রুবি আক্তার বলেন, জুলাইয়ের চেতনা কখনো বিক্রি হয়নি এবং স্থানীয় মানুষের অবদান উপেক্ষা করা উচিত নয়। তিনি স্পষ্ট করে জানান, জোটের ভোটের হিসাব সীমিত হলেও স্থানীয় ভোটই এই আসনের ভাগ্য নির্ধারণ করবে।
এদিকে এনসিপির প্রার্থী জুবাইরুল হাসান আরিফ দাবি করেন, জোট ঐক্যবদ্ধ থাকলে আসন ধরে রাখা সম্ভব। তবে রুবি আক্তারের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে—চট্টগ্রাম-৮ আসনে এখন মূল প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে দলীয় সিদ্ধান্ত না কি স্থানীয় জনগণের রায়।




