২০২৬ নির্বাচনে সাংবাদিকদের ওপর বাড়ছে হুমকি: গবেষণায় উদ্বেগজনক চিত্র
শারীরিক হামলা, ডিজিটাল হয়রানি, মানহানি—বহুমুখী ঝুঁকিতে নারী ও আঞ্চলিক সাংবাদিকরা সবচেয়ে বেশি অসুরক্ষিত


এবিএনএ: ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে সাংবাদিকদের জন্য শারীরিক ও ডিজিটাল—দু’দিক থেকেই ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান ডিজিটালি রাইটের সদ্য প্রকাশিত একটি গবেষণা। এতে দেখা গেছে, সংবাদ সংগ্রহের ক্ষেত্রে সাংবাদিকরা আগের তুলনায় আরও বেশি হুমকির মুখোমুখি হতে পারেন।
শনিবার ঢাকার দ্য ডেইলি স্টার সেন্টারে এক গোলটেবিল বৈঠকে সম্পাদক, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকসহ গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টদের উপস্থিতিতে গবেষণার মূল বিশ্লেষণ তুলে ধরেন ডিজিটালি রাইটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিরাজ আহমেদ চৌধুরী। ‘হাই রিস্ক, লো প্রিপেয়ার্ডনেস: জার্নালিস্ট সেফটি ইন ২০২৬ ইলেকশন’ শিরোনামের এই গবেষণাটি ১৯টি জেলার ২০১ জন সাংবাদিকের ওপর করা জরিপ এবং ১০টি গভীর সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে তৈরি।
গবেষণায় অংশ নেওয়া সাংবাদিকদের ৮৯ শতাংশ জানিয়েছেন, নির্বাচনের মাঠে তারা শারীরিক আক্রমণ বা মারধরের আশঙ্কা করছেন। ৭৬ শতাংশের মতে মৌখিক হুমকি এবং ৭১ শতাংশের মতে ভয়ভীতি দেখানো বড় ঝুঁকি হতে পারে। নারী সাংবাদিকরা আরও বেশি দুর্বল অবস্থায় রয়েছেন—তাদের ৫০ শতাংশ যৌন হয়রানির এবং ৪০ শতাংশ যৌন আক্রমণের আশঙ্কা জানিয়েছেন।
ডিজিটাল পরিসরে ঝুঁকি আরও তীব্র। জরিপে অংশ নেওয়া ৭৫ শতাংশ সাংবাদিক মনে করেন, তাদের বা তাদের প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে অপতথ্য ছড়ানো হতে পারে। ৬৫ শতাংশ হ্যাকিংয়ের ঝুঁকি দেখছেন। নারী সাংবাদিকেরা অনলাইন নজরদারি, ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস এবং অনলাইন হয়রানিকে বড় উদ্বেগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করতে মানহানিকর প্রচারণার আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন সাংবাদিকদের অর্ধেকের বেশি। কিন্তু অধিকাংশ গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানেরই এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নেই। মাত্র ২৪ শতাংশ সাংবাদিক জানিয়েছেন যে তারা নিরাপত্তা সরঞ্জাম বা প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। ৭৭ শতাংশের প্রতিষ্ঠানে নেই কোনো ডিজিটাল নিরাপত্তা নীতিমালা।
গবেষণায় আরও উঠে এসেছে—শারীরিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দল ও তাদের কর্মীরা সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে বিবেচিত। নারী ও জেলা পর্যায়ের সাংবাদিকরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং উগ্র ধর্মীয় গোষ্ঠীকেও প্রধান ঝুঁকি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
রাজনৈতিক লেবেলিং, গণমাধ্যমে আস্থাহীনতা, উগ্রবাদী মনোভাব, গণপিটুনি, দুর্বল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে অপতথ্য ছড়ানো—এগুলোই নির্বাচনে ঝুঁকি বাড়ানোর মূল কারণ বলে মনে করেন উত্তরদাতারা।
গবেষণায় সাংবাদিকদের নিরাপত্তা জোরদারে দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ, স্পষ্ট নিরাপত্তা নীতিমালা প্রণয়ন, জেন্ডার-সংবেদনশীল সুরক্ষা ব্যবস্থা, এবং দ্রুত জরুরি ও আইনি সহায়তা নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়েছে।
আলোচনায় অংশ নেন ঢাকা ট্রিবিউনের সম্পাদক রিয়াজ আহমেদ, টাইমস অব বাংলাদেশের সম্পাদক এম আবুল কালাম আজাদ, এএফপির ব্যুরো প্রধান শেখ সাবিহা আলমসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিরা। ফোয়ো মিডিয়া ইনস্টিটিউটের এশিয়া অঞ্চলের প্রকল্প সমন্বয়ক মারিয়া পিটারসন অনলাইন থেকে আলোচনায় যুক্ত হন।




