Day: December 6, 2025

  • ২০২৬ নির্বাচনে সাংবাদিকদের ওপর বাড়ছে হুমকি: গবেষণায় উদ্বেগজনক চিত্র

    ২০২৬ নির্বাচনে সাংবাদিকদের ওপর বাড়ছে হুমকি: গবেষণায় উদ্বেগজনক চিত্র

    এবিএনএ: ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে সাংবাদিকদের জন্য শারীরিক ও ডিজিটাল—দু’দিক থেকেই ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান ডিজিটালি রাইটের সদ্য প্রকাশিত একটি গবেষণা। এতে দেখা গেছে, সংবাদ সংগ্রহের ক্ষেত্রে সাংবাদিকরা আগের তুলনায় আরও বেশি হুমকির মুখোমুখি হতে পারেন।

    শনিবার ঢাকার দ্য ডেইলি স্টার সেন্টারে এক গোলটেবিল বৈঠকে সম্পাদক, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকসহ গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টদের উপস্থিতিতে গবেষণার মূল বিশ্লেষণ তুলে ধরেন ডিজিটালি রাইটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিরাজ আহমেদ চৌধুরী। ‘হাই রিস্ক, লো প্রিপেয়ার্ডনেস: জার্নালিস্ট সেফটি ইন ২০২৬ ইলেকশন’ শিরোনামের এই গবেষণাটি ১৯টি জেলার ২০১ জন সাংবাদিকের ওপর করা জরিপ এবং ১০টি গভীর সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে তৈরি।

    গবেষণায় অংশ নেওয়া সাংবাদিকদের ৮৯ শতাংশ জানিয়েছেন, নির্বাচনের মাঠে তারা শারীরিক আক্রমণ বা মারধরের আশঙ্কা করছেন। ৭৬ শতাংশের মতে মৌখিক হুমকি এবং ৭১ শতাংশের মতে ভয়ভীতি দেখানো বড় ঝুঁকি হতে পারে। নারী সাংবাদিকরা আরও বেশি দুর্বল অবস্থায় রয়েছেন—তাদের ৫০ শতাংশ যৌন হয়রানির এবং ৪০ শতাংশ যৌন আক্রমণের আশঙ্কা জানিয়েছেন।

    ডিজিটাল পরিসরে ঝুঁকি আরও তীব্র। জরিপে অংশ নেওয়া ৭৫ শতাংশ সাংবাদিক মনে করেন, তাদের বা তাদের প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে অপতথ্য ছড়ানো হতে পারে। ৬৫ শতাংশ হ্যাকিংয়ের ঝুঁকি দেখছেন। নারী সাংবাদিকেরা অনলাইন নজরদারি, ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস এবং অনলাইন হয়রানিকে বড় উদ্বেগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

    বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করতে মানহানিকর প্রচারণার আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন সাংবাদিকদের অর্ধেকের বেশি। কিন্তু অধিকাংশ গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানেরই এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নেই। মাত্র ২৪ শতাংশ সাংবাদিক জানিয়েছেন যে তারা নিরাপত্তা সরঞ্জাম বা প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। ৭৭ শতাংশের প্রতিষ্ঠানে নেই কোনো ডিজিটাল নিরাপত্তা নীতিমালা।

    গবেষণায় আরও উঠে এসেছে—শারীরিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দল ও তাদের কর্মীরা সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে বিবেচিত। নারী ও জেলা পর্যায়ের সাংবাদিকরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং উগ্র ধর্মীয় গোষ্ঠীকেও প্রধান ঝুঁকি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

    রাজনৈতিক লেবেলিং, গণমাধ্যমে আস্থাহীনতা, উগ্রবাদী মনোভাব, গণপিটুনি, দুর্বল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে অপতথ্য ছড়ানো—এগুলোই নির্বাচনে ঝুঁকি বাড়ানোর মূল কারণ বলে মনে করেন উত্তরদাতারা।

    গবেষণায় সাংবাদিকদের নিরাপত্তা জোরদারে দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ, স্পষ্ট নিরাপত্তা নীতিমালা প্রণয়ন, জেন্ডার-সংবেদনশীল সুরক্ষা ব্যবস্থা, এবং দ্রুত জরুরি ও আইনি সহায়তা নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়েছে।

    আলোচনায় অংশ নেন ঢাকা ট্রিবিউনের সম্পাদক রিয়াজ আহমেদ, টাইমস অব বাংলাদেশের সম্পাদক এম আবুল কালাম আজাদ, এএফপির ব্যুরো প্রধান শেখ সাবিহা আলমসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিরা। ফোয়ো মিডিয়া ইনস্টিটিউটের এশিয়া অঞ্চলের প্রকল্প সমন্বয়ক মারিয়া পিটারসন অনলাইন থেকে আলোচনায় যুক্ত হন।

  • ২০২৬ বিশ্বকাপে মেসিদের নতুন চ্যালেঞ্জ: কোন দলগুলোর মুখোমুখি আর্জেন্টিনা?

    ২০২৬ বিশ্বকাপে মেসিদের নতুন চ্যালেঞ্জ: কোন দলগুলোর মুখোমুখি আর্জেন্টিনা?

    এবিএনএ: ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে ‘জে’ গ্রুপে জায়গা পেয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। এই গ্রুপে লিওনেল মেসিদের প্রতিপক্ষ হিসেবে থাকছে আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া ও জর্ডান। আর্জেন্টিনার প্রথম ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে আলজেরিয়ার বিপক্ষে।

    যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসির জন এফ. কেনেডি সেন্টার ফর দ্য পারফর্মিং আর্টসে অনুষ্ঠিত হয় এবারের বিশ্বকাপের ড্র। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন ইংল্যান্ডের সাবেক তারকা ডিফেন্ডার রিও ফার্ডিনান্ড, সঙ্গে ছিলেন আন্তর্জাতিক ক্রীড়া–সঞ্চালক সামান্থা জনসন।

    ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ চারের একটি দল হওয়ায় আর্জেন্টিনা ছিল পট–১-এ। ড্র অনুযায়ী পট–২ থেকে ইউরোপের অস্ট্রিয়া এবং পট–৪ থেকে এশিয়ার প্রতিনিধি জর্ডান ‘জে’ গ্রুপে যোগ হয়। পট—৩ থেকে আসে আলজেরিয়া।

    ড্র মঞ্চে আর্জেন্টিনার প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দলের প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি। তিনি পোডিয়ামে ২০২৬ বিশ্বকাপের ট্রফিও প্রদর্শন করেন। শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্য সামনে রেখে স্কালোনি জানান, এই নতুন গ্রুপ আর্জেন্টিনার জন্য হবে চ্যালেঞ্জিং।

    স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার গ্রুপ আগে থেকেই নিশ্চিত ছিল। ড্র অনুষ্ঠানে ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো মঞ্চে আমন্ত্রণ জানান কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিকে, এরপরে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউডিয়া শেইনবাউম এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। তারা আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের জাতীয় দলের নাম পট থেকে তুলেন।

    আগামী বছরের ১১ জুন শুরু হয়ে ১৯ জুলাই শেষ হবে ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ। আর্জেন্টিনার সামনে অপেক্ষা করছে শিরোপা ধরে রাখার কঠিন লড়াই।

  • চার ঘণ্টার রণক্ষেত্র সীমান্ত: পাকিস্তান-আফগানিস্তান উত্তেজনায় ভাঙছে যুদ্ধবিরতির আশা

    চার ঘণ্টার রণক্ষেত্র সীমান্ত: পাকিস্তান-আফগানিস্তান উত্তেজনায় ভাঙছে যুদ্ধবিরতির আশা

    এবিএনএ: পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্ত শুক্রবার রাতে আবারও তীব্র উত্তেজনায় অস্থির হয়ে ওঠে। প্রায় চার ঘণ্টা ধরে দুই দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে গোলাবিনিময় চলে, যা দুই মাস আগে কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। উভয় পক্ষই গোলাবর্ষণের জন্য একে অন্যকে দায়ী করছে।

    বিবিসির তথ্যানুসারে, স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১০টার দিকে সংঘাত শুরু হয়। ভারী কামান, মর্টারসহ বিভিন্ন অস্ত্র ব্যবহারের ফলে সীমান্তবর্তী আফগান অংশে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বহু আফগান নাগরিক গাড়ি ও পায়ে হেঁটে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে পালিয়ে যাচ্ছেন।

    কান্দাহারের তথ্য বিভাগের প্রধান আলি মোহাম্মদ হাকমাল অভিযোগ করেন, পাকিস্তানের বাহিনী সীমান্তের আফগান অংশে ভারী কামান নিক্ষেপ করেছে, যা বেসামরিক বসতিতে ক্ষতি করেছে।

    অন্যদিকে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি তালেবানের বিরুদ্ধে ‘উস্কানিবিহীন’ হামলার অভিযোগ এনে বলেন, পাকিস্তান তার আঞ্চলিক সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং পাল্টা জবাব দিয়েছে।

    তবে তালেবানের একজন মুখপাত্র দাবি করেন, পাকিস্তানই প্রথম আক্রমণ শুরু করেছে, ফলে তারা জবাব দিতে বাধ্য হয়েছে।

    এই সংঘর্ষ এমন এক সময়ে হলো, যখন সৌদি আরবে দুই পক্ষের শান্তি আলোচনাও ব্যর্থ হয়েছে। যদিও আলোচনায় যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার বিষয়ে সম্মতি ছিল, সর্বশেষ গোলাগুলি সেই প্রচেষ্টাকে আরও কঠিন করে তুলছে।

    এদিকে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আইএসপিআর শনিবার জানায়, খাইবার পাখতুনখোয়ার টাঙ্ক ও লাক্কি মারওয়াত এলাকায় পৃথক অভিযানে টিটিপির নয়জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। তারা নিরাপত্তা বাহিনী ও সাধারণ মানুষের ওপর হামলায় জড়িত ছিল। অভিযানকালে বিভিন্ন অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

    সন্ত্রাসবিরোধী এসব অভিযানে সফলতার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি নিরাপত্তা বাহিনীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, দেশ থেকে সন্ত্রাসবাদ নির্মূলের লড়াই অব্যাহত থাকবে।

  • নির্বাচন প্রস্তুতি শতভাগ সম্পন্ন, তফসিল কবে—এখনো চূড়ান্ত নয়: ইসি সচিবের বক্তব্যে নতুন ইঙ্গিত

    নির্বাচন প্রস্তুতি শতভাগ সম্পন্ন, তফসিল কবে—এখনো চূড়ান্ত নয়: ইসি সচিবের বক্তব্যে নতুন ইঙ্গিত

    এবিএনএ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন (ইসি) প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। তবে ভোটের তফসিল কবে ঘোষণা করা হবে, তা এখনো নির্ধারণে আসেনি বলে জানিয়েছেন ইসি সচিব আখতার আহমেদ।

    শনিবার বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (ইটিআই)-এ সাংবাদিকদের জন্য আয়োজিত এক বিশেষ কর্মশালায় তিনি এ তথ্য জানান। কর্মশালাটি আয়োজন করে ইউএনডিপি ও রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি (আরএফইডি)।

    ইসি সচিব বলেন, “সকালে নির্বাচন সংক্রান্ত প্রস্তুতি নিয়ে দীর্ঘ মিটিং হয়েছে। সেখানে ভোট আয়োজনের লজিস্টিক, নিরাপত্তা, কর্মকর্তা প্রশিক্ষণসহ নানা বিষয় পর্যালোচনা করা হয়েছে।’’
    তিনি আরও বলেন, “ইসি কতটুকু প্রস্তুত—এই প্রশ্নের উত্তর একটাই, আমরা এখন শতভাগ প্রস্তুত।”

    তবে নির্বাচনকালীন সবচেয়ে প্রত্যাশিত অংশ ‘তফসিল’ প্রসঙ্গে তিনি জানান, “এখনো পর্যন্ত তফসিল ঘোষণার নির্দিষ্ট দিন ঠিক হয়নি। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে।”

    কর্মশালায় ‘গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২’, ‘আচরণবিধিমালা ২০০৮’ ও ‘নির্বাচন কর্মকর্তা বিশেষ বিধান আইন ১৯৯১’-এর বিভিন্ন দিক নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ দেন আখতার আহমেদ। তিনি বলেন, গণমাধ্যমের সঠিক ভূমিকা নির্বাচনকে আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিসম্পন্ন করতে সহায়তা করবে।