নৌকাবিহীন ব্যালটে আওয়ামী লীগের ‘কৌশলী ভোট’ হতে পারে নির্বাচন নির্ধারক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সরাসরি অংশগ্রহণ নেই, তবু তাদের বিশাল ভোটব্যাংক আজও হয়ে উঠছে বিজয় নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর


এবিএনএ: বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত আসে বৃহস্পতিবার, যখন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দীর্ঘ দেড় দশকের শাসনকাল শেষে আওয়ামী লীগ সরাসরি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারছে না। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নিষেধাজ্ঞা ও শীর্ষ নেতাদের বিদেশে অবস্থানের কারণে দলটি এই নির্বাচনে অনুপস্থিত। তবে দেশের রাজনৈতিক সমীকরণে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক আজও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
দলের কর্মী ও সমর্থকরা ভোট কেন্দ্রে কৌশলী বা ট্যাকটিক্যাল ভোট দিতে পারেন। নৌকা প্রতীক না থাকায় তারা নিজেরা ভোট কাকে দেবেন তা নির্ধারণ করছেন স্থানীয় নিরাপত্তা, প্রতিহিংসার ভয় ও রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষা করার ভিত্তিতে। সামাজিক মাধ্যমে “No Boat, No Vote” প্রচারণা দেখা গেছে, তবে বাস্তবে ভোট কেন্দ্রে উপস্থিতি ভিন্ন হতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই কৌশলী ভোট বিএনপি ও জামায়াতের নির্বাচনী কৌশলকে প্রভাবিত করবে। বিশেষ করে প্রথমবার ভোটদাতারা এবং বয়সে ৩৫–৪০-এর নিচের ভোটাররা নির্বাচনের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবেন। বিএনপি ও জামায়াত বিভিন্ন এলাকায় নমনীয় অবস্থান গ্রহণ করেছে, যাতে আওয়ামী লীগের ভোটারদের আস্থা জাগানো যায়।
রাজনৈতিক ইতিহাসে দেখা গেছে, প্রশাসনিকভাবে কোনো দলকে নিষিদ্ধ করা সম্ভব হলেও পুরোপুরি দমন করা যায় না। আওয়ামী লীগের সাধারণ সমর্থকরা নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক প্রভাব বজায় রাখতে ভোট কেন্দ্রে অংশ নিতে পারেন। ফলস্বরূপ, বিএনপি ও জামায়াতের মতো বড় দলগুলো এই ‘অন্যায় ও অনাথ’ ভোটারদের আকৃষ্ট করতে নানা কৌশল ব্যবহার করছে।
খুলনা, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও ফরিদপুরের মতো traditionally আওয়ামী অধ্যুষিত এলাকা এবার পরিবর্তিত চিত্র呈 করছে। বিএনপি ও জামায়াতের পোস্টার দৃশ্যমান। হিন্দু ভোটারদের কিছু অংশ নিরাপত্তা আশ্বাসে বিএনপির দিকে ঝুঁকছে। জামায়াতও কৌশলগতভাবে এই ভোটারদের মধ্যে সহমর্মিতার রাজনীতি ব্যবহার করছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, আওয়ামী লীগের ভোটাররা এবার আবেগ নয়, বরং ‘অস্তিত্ব রক্ষা ও নিরাপত্তা’ ভিত্তিক কৌশলী ভোট দেবেন। ভোটাররা নিশ্চিত থাকবেন যে জয়ী প্রার্থী তাদের ওপর রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চালাবে না। নৌকাবিহীন ব্যালটে এই ভোটাররা যেদিকে ঝুঁকবেন, সেদিকেই নির্বাচনের পাল্লা ভারী হবে। তাই আগামী নির্বাচন শুধু জয়-পরাজয়ের নয়, বরং আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নির্ধারণেরও পরীক্ষা হবে।




